ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ৩:১২:৩৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বিএনপির সঙ্গে সংলাপ নয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০২:১৬ পিএম, ২৬ জুলাই ২০১৪ শনিবার | আপডেট: ০২:৪৮ পিএম, ২৬ জুলাই ২০১৪ শনিবার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম,ঢাকা : আগামী নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই হবে। সাংবিধা140726141759_sheikh_hasina_presser_304x171_focusbangla_nocreditনিকভাবেই হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া বিএনপির সঙ্গে সংলাপের কথাও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। শনিবার সকালে যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, “যারা আমার বাবা-মা’র হত্যাকারী।আমার চোখের সামনে আমার নেতা-কর্মীর সারিসারি লাশ পড়ে আছে। আমি জানি কারা করেছে। আমি পারি তাদের সঙ্গে বসতে?” ঈদের পর বিএনপি আন্দোলনে নামবে বলে যে হুমকি দিচ্ছে, এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাঠে নামুক না। মাঠে আওয়ামী লীগ আছে, জনগণ আছে। মাঠের খেলা মাঠেই হবে। ফুটবল মাঠে কে কয়টা গোল দেয়, সেটা সেখানেই দেখা যাবে।’ নির্বাচনে অংশ না নেয়াকে ‘বিএনপির’র ভুল’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচন তো হয়ে গেছে। তারা নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এটা তো তাদের ভুল সিদ্ধান্ত। তাদের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত জাতি কেন দেবে? সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তার দায়ভার তাদের দিতে হবে।” তিনি বলেন, “যেভাবেই হোক নির্বাচন হয়েছে। জনগণ মেনে নিয়েছে। ৪০ ভাগ ভোট পড়েছে।” শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের যদি বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কে কোনোদ্বিধা থাকত, তাহলে তাঁকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বারবার ফোন করে দাওয়াত দিতেন না। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ কথোপথনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এতো ডায়ালগ, ডায়ালগ কেন? ডায়ালগের চেষ্টা তো হয়েছে। তারপরও আপনারা আমাকে অপমানিত করতে চান কেন?” প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে বিএনপি ও শরিক দলগুলোর ধ্ববংসাত্নক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে বলেন, “তারা নির্বাচনের নামে কয়েক’শ মানুষ হত্যা করেছে। এই আন্দোলন তারা করবে? আর সরকারে থেকে আমরা তা বসে বসে দেখবো?” প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “আমার ওপর এতো অত্যাচার কেন? আমার ওপর এতো টর্চার কেন? তারা আমার বাবা-মা’কে হত্যা করেছে। তাদের সঙ্গে গলায় গলা মিলিয়ে কথা বলতে হবে?” সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে পাল্টা প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী জানতে চান “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান? নাকি তাদের বিচার না হোক- সেটা চান?” যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। একটা রায় কার্যকর হয়েছে। বিচার বিভাগ রায় দিলেই আমরা বাস্তবায়ন করবো। এজন্য ধৈর্য ধরতে হবে।” যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সফরের অন্যতম অর্জন বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক এ সফরের অন্যতম একটি বড় অর্জন। শেখ হাসিনা বলেন, “ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও নারী উন্নয়ন, বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন, নারী স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের উদ্যোগ এবং অর্জনের প্রশংসা করেন। তিনি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের মূলোৎপাটনে আমাদের সরকারের কঠোর অবস্থানেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইলেকশন যা হয়েছে। উনি (ডেভিড ক্যামেরন) ফরোয়ার্ড লুকিং। উনি সামনে এগোতে চান। যেখানেই যান,সকলের পার্টিশিপেটশনে ইলেকশন হয়নি- এটা তো থাকবেই।" “উনি বলেছেন- যা হওয়ার হয়ে গেছে। আমরা একসাথে সামনের দিকে এগোতে চাই।” সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এছাড়া সাংসদ মো. রহমত আলী ও ফজলে নূর তাপস এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল উপস্থিত ছিলেন। ২৬.০৭.২০১৪