ঢাকা, শনিবার ০৪, জুলাই ২০২৬ ১৯:০৩:১৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বর্তমান বিশ্বে শান্তি নিশ্চিত করাটাই চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:৩৪ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২১ সোমবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

যেকোনো দেশের জাতীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী অপরিহার্য বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করা অতীতের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে শান্তিরক্ষীদের বহুমাত্রিক ও জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

সোমবার সেনাবাহিনীর ‘অনুশীলন শান্তির অগ্রসেনা ২০২১’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এক লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো দেশের জাতীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী অপরিহার্য। জাতির পিতা স্বাধীন বাংলাদেশে একটি সুশৃঙ্খল ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে স্বাধীন হওয়ার নয় মাসের মাথায় জাতির পিতা একটি সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন। সেই সংবিধানের ২৫-নং অনুচ্ছেদে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়নকল্পে’ সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতির ভিত্তি রচনা করে দিয়েছেন।

সরকারপ্রধান বলেন, আমরা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করি। সেসময় আমি সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশের শীর্ষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি)প্রতিষ্ঠা করি। বিশ্ব শান্তি সুসংহত করার প্রয়াসে দেশ-বিদেশের শান্তিরক্ষীদের অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট ওপারেশন ট্রেনিং (বিআইপিএসওটি) প্রতিষ্ঠা করি।

সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের আওয়ামী লীগের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পুনরায় সরকার গঠনের পর অত্যন্ত পেশাদার ও প্রশিক্ষিত সামরিক বাহিনী গঠনের লক্ষ্য নিয়ে আমরা ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ শীর্ষক একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পিস বিল্ডিং সেন্টার (বিপিসি)প্রতিষ্ঠা করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, এখন পর্যন্ত এক হাজার ৮০০ নারী শান্তিরক্ষীসহ এক লাখ ৭৫ হাজারের অধিক বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী পাঁচটি মহাদেশের ৪০টি দেশে ৫৪টি মিশনে অংশগ্রহণ করেছে। বর্তমানে সাত হাজারের অধিক বাংলাদেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য ১০টি মিশনে শান্তিরক্ষার উদ্দেশ্যে মোতায়েন আছে। একারণেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বেরর সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

অতি সম্প্রতি ভারত সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক এসব পুরস্কার বাংলাদেশের জনগণের পাশাপাশি বিশ্ব মানবতার শান্তি ও সমৃদ্ধিতে জাতির পিতার আজীবন সংগ্রামের স্বীকৃতি বহন করে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন সফলভাবে করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তিনি বলেন, এই অনুশীলনটি আয়োজন করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। জাতির পিতার শান্তিদর্শন প্রতিষ্ঠায় এই বহুজাতিক অনুশীলনটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

-জেডসি