কোয়ারেন্টিনে ধর্ষণের শিকার সেই নারীর আত্মহত্যার চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০২:৪৯ পিএম, ১৯ মে ২০২১ বুধবার
ছবি: সংগৃহীত
খুলনা মহানগরীর পিটিআই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে ধর্ষণের শিকার ভারতফেরত সেই নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। মঙ্গলবার (১৮ মে) রাতে কোয়ারেন্টিন সেন্টারে আত্মহত্যার চেষ্টার সময় নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে রক্ষা করেন।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ডাক্তারি পরীক্ষার পর মঙ্গলবার বিকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ওই নারীকে খুলনা পিটিআই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই নারী সেখান থেকে তাকে ছেড়ে দেয়ার দাবি জানালে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ না হওয়ায় কেউ তাতে রাজি হননি। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ ঘটনা টের পেয়ে ওই সেন্টারে থাকা অন্যান্য নারী ও নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে রক্ষা করেন।
এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেন্টারটি পরিদর্শনে যান। এছাড়া ওই নারীকে তদারকির জন্য নারী পুলিশ নিযুক্ত করা হয়েছে।
আজ (বুধবার) ওই নারীর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ হচ্ছে। এদিন তার করোনা টেস্ট করে ফলাফল নেগেটিভ হলে তাকে মুক্ত করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ মে ওই তরুণী ভারত থেকে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসেন। পরে তাকে খুলনা পিটিআই সেন্টারে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।
গত ১৩ মে রাত ১টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত খুলনা প্রাইমারি ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের (পিটিআই) মহিলা হোস্টেলে ভারতফেরত কোয়ারেন্টিনে অবস্থানরতদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন মোকলেছুর রহমান। ডিউটিতে থাকাকালীন উক্ত এএসআই কোয়ারেন্টিনে অবস্থানরত এক তরুণীর কক্ষে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরের রাতে আবারও ওই তরুণীর কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ওই তরুণী চিৎকার করলে এএসআই মাকলেছুর দ্রুত নিচে নেমে যায়। ঘটনাটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসলে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মেলে।
এরপর ১৭ মে ওই তরুণী বাদী হয়ে খুলনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর খুলনা মেট্রোপলিটন থানা পুলিশ এএসআই মোখলেছকে গ্রেফতার করে। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
-জেডসি
