ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ২:০৫:২৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

সরকারি কর্মচারী আইন দ্রুত হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১২:৫০ পিএম, ১০ আগস্ট ২০১৪ রবিবার | আপডেট: ১২:৫৫ পিএম, ১০ আগস্ট ২০১৪ রবিবার

1407666880623স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম,  ঢাকা:  সংস্কারের মাধ্যমে ‘দক্ষ ও সেবামুখী' জনপ্রশাসন গড়তে সরকারি কর্মচারী আইন দ্রুত পাস করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট যতো দ্রুত সম্ভব আমরা করে দেব। সংসদে আসলে আমরা তাড়াতাড়ি পাস করে দেব এটা।” রোববার সাভারে লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমিতে (বিপিএটিসি) ৫৬তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ইতোমধ্যে এ আইনের খসড়া তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশের জন্য একটি দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।” প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য আইন প্রণয়নের বাধ্যবাধকতা থাকলেও দীর্ঘ দিনেও তা প্রণীত হয়নি। ফলে বিধি, নীতিমালা ও প্রয়োজনমতো নির্দেশনাপত্র জারি করে সরকারি কর্মচারীদের পরিচালনা করা হচ্ছে এতদিন ধরে। এতে বলা হয়েছে, বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিয়ে কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগ গ্রহণের আগে সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে সরকারের অনুমোদন নিতে হবে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের যথাযথ বেতন-ভাতা দিতে ‘বেতন ও চাকরি কমিশন ২০১৩’ গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার নতুন নতুন চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের মেধা ও মননের সমন্বয় ঘটিয়ে মোকাবিলা করতে হবে। আর এই সমন্বয় ঘটানোর কলাকৌশলগুলো প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই রপ্ত করা সম্ভব।” এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের মেয়াদ চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও শেখ হাসিনা জানান। তিনি বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং বিপিএটিসি এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আইনের খসড়া অনুযায়ী, তিন বছরের বেশি মেয়াদে কারাদণ্ড হলে সরকারি কর্মচারীকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা যাবে।দুর্নীতিসহ অন্য অপরাধে কোনো কর্মচারীর তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হলে তাকে চাকরিতে বহাল রাখার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, জ্যেষ্ঠতা, প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা ও কর্ম মূল্যায়নকে বিবেচনায় রাখা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে খসড়ায়। খসড়া অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি স্থায়ী বেতন কমিশন রাখতে হবে, যা প্রতি বছর বাজার মূল্যের গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে বেতন বৃদ্ধি সমন্বয় করে বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সুপারিশ করবে। আইনটি বাস্তবায়ন হলে সরকারি কর্মচারীদের উৎসাহ দিতে জনসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কার ও স্বীকৃতিরও ব্যবস্থা করা হবে। ঔপনিবেশিক ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের সেবায় কাজ করার আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “বৃটিশদের লাল দালান কেন ধরে রাখতে হবে? তারা আমাদের ডমিনেট করেছে। তাদের লাল দালান ধরে রাখার কোনো দরকার নেই। পাকিস্তান আমাদের শোষণ করেছে। তাদের লিগ্যাসি কোন ধরে রাখব?” তিনি বলেন, “জনগণের সেবক হিসাবে কাজ করতে হবে। আপনারা বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা যা পাচ্ছেন- তা জনগণের রক্তঝড়া অর্থের বিনিময়েই পাচ্ছেন।” জাতীয় শুদ্ধাচার নীতি বাস্তবায়নের জন্যও কর্মকর্তাদের তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করা কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান। এবারের প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া ২৬৩ জন কর্মকর্তার মধ্যে প্রথম ৩০ জনের হাতে পদক তুলে দেন তিনি। এই প্রশিক্ষণ সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরি জীবনে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আধুনিক ও সময়োপযোগী হতে হবে। প্রশিক্ষণ একজনকে দক্ষ করতে পারে। সরকারি কর্মকর্তাদের দেশের বাইরে পঠিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধামন্ত্রী। উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমি একটা জিনিসই চাই আপনাদের কাছে।এই বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে চাই।” সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, “প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী আপনারা। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসাবে জনগণের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব রয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করে বলেন, “স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে দেশে ফিরে এসেছি শুধু দেশের মানুষের সেবা করতে।” বিপিএটিসির রেক্টর খন্দকার মো. ইফতেখার হায়দারের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসতম আরা সদিক, জনপ্রশাসন সচিব কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, বিপিএটিসর পরিচালক (মূল্যায়ন) শাহে আলম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ১০.০৮.২০১৪