দেশে ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ৬৭, সংক্রমণের হার নিয়ে উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৬:৪৭ পিএম, ১৯ জুন ২০২১ শনিবার
ফাইল ছবি।
ঘাতকব্যাধি করোনা প্রতিনিয়ত ছড়িয়ে পরছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা আঞ্চলে। দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩ হাজার ৪৬৬ জনে। এসময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫৭ জন। এতে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে ৮ লাখ ৪৮ হাজার ২৭ জনে দাঁড়াল।
স্বাস্থ্য অধিদফতর আজ শনিবার ২৪ ঘণ্টার যে তথ্য দিয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে সারা দেশে শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ০২ শতাংশ। এর আগে শুক্রবার এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ছিল ১৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫৭ জন। নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৬৪ জনের।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা নোয়াখালীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। এই জেলায় করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে এখন কোভিড রোগী রয়েছেন ৫৮ জন।
অস্থায়ী এই হাসপাতালের পরিচালক ডা. নিরুপম দাস বলেছেন, ঠিক ১৫দিন আগে এই হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ছিল ১০জন। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ এবার নোয়াখালীর সদরে বেশি সংক্রমিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, একটা জিনিস খেয়াল করার আছে, এবার সদরে আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি। প্রথম ওয়েভে বেগমগঞ্জে বেশি ছিল। এছাড়া সাইলেন্ট পেশেন্ট অর্থাৎ যাদের উপসর্গ নেই এই ধরনের রোগী প্রচুর পাচ্ছি।
রাজধানী ঢাকায় সংক্রমণের হার গত তিন সপ্তাহে ৭ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের চিকিৎসক মিলি দে বলছেন কোভিড ইউনিটে করোনা রোগীর চাপ যেমন বেড়েছে তেমনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৭০ জনের মধ্যে ২০ জন করোনার উপসর্গ নিয়ে আসছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, সারা দেশে শনাক্তের হার গড়ে ১৮ শতাংশ। কোন কোন জেলায় ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শনাক্তের হার দেখা যাচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ বলেন শনাক্তের হার বাড়াটা ইঙ্গিত করছে, এখানে ভারতের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রভাব পড়েছে। যদিও সরকার ভারতের সঙ্গে চলাচল বন্ধ রেখেছে। তবে সেটাকে পর্যাপ্ত বলে মনে করছেন না অধ্যাপক বে-নজীর।
তিনি বলেন, আটকে পড়া যেসব বাংলাদেশিরা আসছেন তাদের কেউ কেউ লক্ষণসহ আসছেন, তাদের আইসোলেশন যথার্থ হয়নি। যারা লক্ষণ ছাড়া এসেছিলেন তাদের কোয়ারেন্টিনও ঠিক মত হয়নি। সেখান থেকে কিছু ফাঁক গলিয়ে আমাদের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঢুকে পড়েছে।
অধ্যাপক বে-নজীর আরও বলেন, দ্বিতীয়ত কয়েক হাজার ট্রাক ড্রাইভার এবং হেলপার সংক্রমণ নিয়ে আমাদের জনগোষ্ঠীর মধ্যে দিয়েছে। তৃতীয়ত যারা অবৈধভাবে যাতায়াত করেন তারা সংক্রমণটা নিয়ে আসছেন। আমাদের আসলে একটা এসেসমেন্ট থাকা উচিত ছিল। আমরা যেগুলো করছি তা যথেষ্ট নয়।
এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে লকডাউন দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। খুলনায় মঙ্গলবার থেকে সাতদিনের লকডাউনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে এসব লকডাউন করনোভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে দৃশ্যমান-ভাবে কাজ করছে কীনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে প্রশাসন থেকে যেসব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে সেগুলো যথার্থ কীনা সে সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা বলেন, আমাদের হাসপাতালের সংখ্যা নির্দিষ্ট। এখন ৫০০ শয্যার যেটা আছে সেটা আমি চাইলেই রাতারাতি ১,০০০ শয্যার করতে পারবো না। ২০ শয্যার যে আইসিইউ আছে সেটা চাইলেই আমি ৫০ শয্যার করতে পারবো না। তারপরেও স্বাস্থ্য-বিভাগ শয্যা সংখ্যা বাড়িয়েই চলছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে সংক্রমণের হার এখনো পর্যন্ত ঢাকার বাইরে বেশি। তবে ঢাকায় যদি এই সংক্রমণের হার বেড়ে যায় সেটা বিপদজনক হবে।
