প্রিয়ভাষিণীর অবস্থার কিছুটা উন্নতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ১২:৫০ পিএম, ৯ নভেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০১:১৩ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৭ রবিবার
দেশবরেণ্য ভাস্কর ও মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর শারীরীক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন। তাকে ১২ ঘন্টা পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ল্যাবএইডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাইফুর রহমান লেলিন বলেন, প্রিয়ভাষিণীর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তিনি এখন পর্যবেক্ষনে রয়েছেন। গতকালের পর তার শারীরীক অবস্থার আর অবণতি হয়নি। ১২ ঘন্টা পর তার অবস্থা সঠিকভাবে বলা যাবে। তিনি বর্তমানে সিসিইউতে রয়েছেন।
ভাস্কর প্রিয়ভাষিণী গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গতকাল বুধবার বাসার বাথরুমে পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যথা পান তিনি। ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করায় দুপুরের দিকে ল্যাবএইড হাসপাতালে যান তিনি।
সাইফুর রহমান লেলিন জানান, গতকাল দুপুরে গোড়ালিতে প্রচণ্ড চোট নিয়ে তিনি হাসপাতালে আসেন। পরে অর্থোপেডিকস বিভাগে চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় তিনি দুই দফায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।
ভাস্কর প্রিয়ভাষিণীর চিকিৎসার জন্য অধ্যাপক ডা. বারীণ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ডের বরাত দিয়ে লেলিন জানান, এ মুহূর্তে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর শারীরিক অবস্থা ‘আশঙ্কাজনক’। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে বুধবার রাত ৮টার দিকে তার গোড়ালির অপারেশন হয়।
সাইফুর রহমান লেলিন আরো জানান, বুধবার দুপুরে অর্থোপেডিকস বিভাগে চিকিৎসা চলাকালে ব্যথা ও মানসিক ভীতি থেকে একটি প্রচণ্ড শক খান প্রিয়ভাষিণী। এসময় তার বিপি পাওয়া যাচ্ছিলো না। পরে আবার ডা. বারীণ যখন তাকে দেখেন, তখনও আবার শক খান তিনি।
লেলিন বলেন, সেকেণ্ড শকটি ভীতিজনক। সেজন্যই আমরা তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলছি।
এই মুক্তিযোদ্ধা, ভাস্কর দীর্ঘদিন থেকে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। তার রক্তে পটাসিয়াম ও হিমোগ্লোবিন একদম কম বলে জানান চিকিৎসকরা। তিনি কিডনির জটিলতায়ও ভুগছেন।
১৯৪৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি খুলনায় জন্ম ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মুক্তিযোদ্ধা খেতাব দেয়। ২০১০ সালে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পদক পান।
২০১৪ সালে একুশের বইমেলায় তার আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘নিন্দিত নন্দন’ প্রকাশিত হয়। বইটি ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পায়।
