ঢাকা, শুক্রবার ০৩, জুলাই ২০২৬ ৭:৩২:৪৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

পরীমনির ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন গাফ্‌ফার চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:২৫ পিএম, ১০ আগস্ট ২০২১ মঙ্গলবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাই ছবির নায়িকা পরীমনি। নানা কারণেই আলোচিত-বিতর্কিত। এবার ঢাকাই এই নায়িকার ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানালেন প্রখ্যাত লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। গতকাল সোমবার (৯ আগস্ট) বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ আবেদনটি পাঠান তিনি।

আবেদনে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই আবেদন আমার একার আবেদন নয়। দেশে প্রশাসন, একটি বিত্তশালী গোষ্ঠী এবং একটি মিডিয়া গোষ্ঠী মিলে একটি ২৮ বছরের তরুণীকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার যে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে, সে সম্পর্কে সচেতন নাগরিক সমাজের আবেদন। পরীমনিকে গ্রেপ্তার করার জন্য দু-চারজন র‍্যাব কিংবা পুলিশের সদস্য গেলেই হতো, সেখানে যে যুদ্ধযাত্রা করা হয়েছিল, তাতে মনে হয়েছিল কোনো ভয়ঙ্কর ডাকাতকে গ্রেপ্তারের জন্য এই যুদ্ধযাত্রা। গ্রেপ্তারের পর থেকেই পরীমনির বিরুদ্ধে একটার পর একটা স্ক্যান্ডাল ছড়ানো হচ্ছে। বোঝাই যায়, কোনো একটি মহল থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই স্ক্যান্ডাল ছড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ বিচারের আগেই বিচার। চয়নিকা চৌধুরীর মতো একজন বিখ্যাত নাট্যকারকে অহেতুক রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে তার চরিত্রে কালিমা লেপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এগুলো ক্ষমতার বাড়াবাড়ি। এগুলো চলতে দিলে দেশের নাগরিক স্বাধীনতা বিপন্ন হবে।

আবদুল গাফ্‌ফার আরও লিখেছেন, বোট ক্লাবের ঘটনার পরে আসামিরা যে সহজেই জামিন পেলেন, তার রহস্য কী? এই শক্তিশালী মহলটি প্রশাসনের একাংশকে বশ করে যে এই ঘটনাগুলো সাজিয়েছে, তা বুঝতে কি কষ্ট হওয়ার কথা? তারপর মিডিয়ার প্রচার। এই প্রচারগুলো যে সত্য নয়, তা সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের বিবৃতিতে জানা গেছে। সাড়ে তিন কোটি টাকার গাড়ি নিয়ে পরীমণির বিরুদ্ধে যে প্রচার চালানো হয়েছে, আরেফিন সাহেবের বিবৃতিতে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। পরীমনি চলচ্চিত্রের নায়িকা। তার নানা পুরুষের সঙ্গেই নানাবিধ সম্পর্ক থাকতে পারে। সেটা কি একটা অপরাধ?

আমার সবিনয় জিজ্ঞাসা, আদালতে বিচার হওয়ার আগে দেশের চলচ্চিত্রজগতের সম্ভাবনাময় এক তরুণীর জীবন যেভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হলো, তার দায়িত্ব কে নেবে? আদালতের বিচারে পরীমণি যদি দোষী সাব্যস্ত হন এবং শাস্তি পান, তাতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।

কিন্তু একজন তরুণীকে যেভাবে আটক করে হেনস্তা করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা শুধু নারীসমাজের অপমান নয়, মানবতার অপমান। আমাদের নাগরিক স্বাধীনতার ওপর এটা একটি ভয়ঙ্কর থাবা।

আমি দেশের সচেতন বুদ্ধিজীবী শ্রেণির কাছে আবেদন করি, তারা পরীমণির ওপর এই হেনস্তার তীব্র প্রতিবাদ করুন। দয়া করে চুপ করে থাকবেন না। পরীমনির ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ করুন। মিডিয়ার কাছে অনুরোধ, তারা যেন অত্যাচারিতের পক্ষে দাঁড়ায়। অত্যাচারী গোষ্ঠীর পক্ষে না যায়।

-জেডসি