বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার বেড়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৬:৫৫ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০২:২৯ পিএম, ৭ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার
বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার বেড়েছে। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে প্রতি লাখে ১৯৬ জন মায়ের মৃত্যু হচ্ছে। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৯৪। ‘বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু ও স্বাস্থ্যসেবা জরিপ ২০১৬’-এর প্রাথমিক ফলাফলে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (এনআইপিওআরটি), আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও মার্কিন দাতা সংস্থা ইউএসএআইডি এই জরিপ করেছে।
আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় জরিপের তথ্য প্রকাশ করা হয়।
২০১৫ সালের নভেম্বরে ‘মাতৃমৃত্যুর প্রবণতা: ১৯৯০ থেকে ২০১৫’ (ট্রেন্ডস ইন মেটার্নাল মরটালিটি: ১৯৯০ টু ২০১৫) শীর্ষক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২৫ বছরে মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘ শিশু তহবিল, জাতিসংঘ জনসংখ্যা বিভাগ ও বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে এই প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়-গর্ভাবস্থায়, সন্তান জন্মদানের সময় এবং সন্তান জন্মের ছয় সপ্তাহের মধ্যে মায়ের মৃত্যু হলে সেটাই ‘মাতৃমৃত্যু’।
এর আগে, ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক বলেছিলেন, গত নয় বছরে দেশে প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যুর হার ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০০১ সালে বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু জরিপ অনুযায়ী এ হার ছিল প্রতি এক লাখে ৩২২ জন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, দেশে মাতৃমৃত্যু কমছে না।
বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু ও স্বাস্থ্যসেবা জরিপ-২০১৬ বলা হয়, দেশে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সম্পাদিত প্রসবের হার ৩১ শতাংশ। এর মধ্যে ৮৩ শতাংশই সিজারিয়ান প্রসব হয় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে।
জরিপে বলা হয়, দেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১০ সালে এ হার ছিল ১২ শতাংশ, ২০১৬ তে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ শতাংশে। এর মধ্যে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে ৮৩ শতাংশ, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩৫ শতাংশ এবং এনজিও’র হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ৩৯ শতাংশ মা সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোনো দেশের মোট সিরাজিয়ান প্রসবের হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে রাখার উচিৎ। তবে জরিপে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে এ হার দিগুণেরও বেশি। প্রায় ৩১ শতাংশ। দেশে বছরে ১০ লাখ সিজারিয়ান প্রসব হচ্ছে, যার ৭৯ শতাংশ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে।
ল্যাটিন আমেরিকার এক গবেষণার বরাত দিয়ে জরিপে বলা হয়, সিজারিয়ান প্রসব বৃদ্ধির ফলে মাতৃত্ব জনিত অসুস্থতা এবং মাতৃমৃত্যু বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও সিজারিয়ানের পর রক্তক্ষরণ ও অ্যানেসথেশিয়া জনিত জটিলতার কারণে স্বাভাবিক প্রসবের চেয়ে মৃত্যু হার ৩ গুণ বেশি।
চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি) ও এসডিজি-এর বেইজলাইন নির্ধারণ এবং মাতৃসেবা ব্যবহার সম্পর্কে তথ্য আহরণের উদ্দেশে মাতৃমৃত্যু ও স্বাস্থ্যসেবা জরিপ (বিএমএমএস)- ২০১৬ পরিচালিত হয়। জরিপে মাতৃমৃত্যু ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৮৪ জনের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন রিসার্চ প্যান্ড ট্রেনিং (এনআইপিওআরটি) এর মহাপরিচালক রওনক জাহান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হেলথ সার্ভিসেস ডিভিশনের সচিব মো. সিরাজুল হক খান এবং মেডিকেল অ্যাডুকেশন অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার বিভাগের সচিব ফাইজ আহমেদ, ইউএসএইড বাংলাদেশের ডিরেক্টর ক্যারল ভেসকুয়েজ, এনআইপিওআরটি এর পরিচালক (রিসার্চ) মো. রাফিউল ইসলাম সরকার প্রমুখ।
