ঢাকা, শুক্রবার ০৩, জুলাই ২০২৬ ১৯:৫৬:২৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

গাজীপুরে স্ত্রীকে হত্যা : স্বামীর ফাঁসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০১:৫৮ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৩:৩৬ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার

গাজীপুর সদরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আগুনে পোড়ানোর মামলায় মো. আয়নাল হক (৩৫) নামে এক ব্যক্তির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক একেএম এনামুল হক এ রায় দেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আয়নাল হক গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাইমাইল পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. আব্দুল মান্নানের ছেলে।

রায়ে একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া অপর একটি ধারায় আসামিকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডসহ ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, গাজীপুর সদরের আনোয়ারা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী আয়নাল হক। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর আয়নালের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা আনোয়ারার বাড়িতেই বসবাস করতেন। আনোয়ারার আগের সংসারের আনোয়ার হোসেন নামে একটি ছেলে রয়েছে। আয়নাল-আনোয়ারা দম্পতির সংসারে ৬ বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে।

আনোয়ারার নিজের কিছু জমি রয়েছে। এই জমি আয়নাল হক ও তার ছেলের নামে লিখে দেওয়া নিয়ে এই দম্পত্তির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এই বিরোধের জেরে ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি রাতে দুধের সঙ্গে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে আনোয়ারাকে খাওয়ায় আয়নাল। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সে। তারপর পেট্রোল ঢেলে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আয়নাল হক ও নিহতের ভাই আমজাদ হোসেন আঞ্জুকে আটক করেন।

এ ব্যাপারে কোনাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি থানা পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআইসহ ৬টি সংস্থা তদন্ত করে। সিআইডির তদন্তে আমজাদ হোসেন মঞ্জুর সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। স্বামী আয়নাল হককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর আয়নাল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সকালে আদালত ওই রায় দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মো. হারিছ উদ্দিন আহম্মদ ও আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুস সোবহান, জেবুন্নেসা মিনা ও মোহাম্মদ আলী তারেক বুলবুল মামলা পরিচালনা করেন।