ঢাকা, রবিবার ০৮, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:২২:৩৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও ২ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা  

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:১০ এএম, ২৫ অক্টোবর ২০২১ সোমবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে দুই শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র শামীম হোসেন রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শত শত ছাত্র, মিডিয়াকর্মী, রবি প্রশাসনের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সামনে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্র-শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। 

এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শাহজাদপুর পৌর শহরের বিসিক বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ অবরোধ চলাকালে শত শত পাবলিক ও পুলিশের সামনে আবিদ নামের এক ছাত্র হাতের রগ কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আমিনুর রহমান শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় পিপিডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

সহপাঠীদের একের পর এক আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। এদিকে এ অবরোধ চলাকালে পাবনা-ঢাকা সহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এ সময় আটকাপড়া যানবাহনের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ তাদের বুঝিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরত পাঠাতে চাইলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তা নাকোচ করে দেন। 

এর কিছুক্ষণ পর পৌনে ১টার দিকে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সায়মন আহমেদ শাহীন কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন। এরপর শিক্ষার্থীদের জামায়াত-বিএনপি আখ্যা দিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট ও সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের ২ নভেম্বরের উপনির্বাচন বানচালের চেষ্টায় এ সড়ক অবরোধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। 

এরপর অবরোধে বাধা দিয়ে তাদের মহাসড়ক থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ সময় ছাত্রছাত্রীরা চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরে এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে ওই নেতা দলবল নিয়ে অবরোধ এলাকা ত্যাগ করেন। দুপুর পৌনে ১টার দিকে পুলিশের অনুরোধে তারা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিয়ে রবির একাডেমিক ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন।

এরপর তারা একাডেমিক ভবনের প্রধান গেটে তালা দিয়ে রবির রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। 

এ বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র আবু জাফর বলেন, রবি প্রশাসন আমাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। তারা শিক্ষার্থীদের মঙ্গল চায় না। তারা শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনকে রক্ষায় নানা অজুহাতে লুকোচুরি খেলছে। শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হলেই আমরা ক্লাসে ফিরে যাব। পরীক্ষায়ও অংশ নেব। অথচ রবি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই গত শুক্রবার সিন্ডিকেট সভা মুলতবি করে আমাদের অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এতে আমাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে আমাদের অনেকেই হাত কেটে ও বিষপানে আত্মাহুতির চেষ্টা করেছেন। তিনি মহাসড়ক অবরোধকালে ছাত্রলীগ নেতা শাহীনের অতর্কিতে চড়াও হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।