ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৬, জুলাই ২০২৬ ১৮:৪৬:০১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

রোকেয়ার পথ অনুসরণে মাঙ্গলিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ১০:২৮ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ০৭:২৪ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার

রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেনের কালজয়ী আদর্শের পথ অনুসরণ করে আমাদের নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য একটি মাঙ্গলিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।


বক্তারা বলেন, রোকেয়া সভ্যতা নির্মাণে যে আলোক শিখা জ্বেলে গেছেন তা আজও সার্বিক মুক্তির পথে অনিঃশেষ প্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে। শুধু মুসলমান নয়, সব ধর্মে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য অবরোধ ভেঙ্গে সংগ্রামে লিপ্ত হবার উৎসাহ যুগিয়েছেন তিনি।


আজ রোববার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।


‘জ্ঞানতত্ত্ব ও নারীমুক্তি : আমাদের প্রতিকৃতি (উনিশ-বিশ শতক)’-শীর্ষক আলোচনায় বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমিন। সেন্ট্রাল উইমেন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক পারভিন হাসানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।


অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, কোন দেশকে উন্নত করতে হলে নারী-পুরুষ একযোগে সামাজিক, রাজনৈকি, অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশগ্রহন করতে হয়ে।


তিনি বলেন, রোকেয়া নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে দিয়ে গেছেন সম্মুখ যাত্রার দিশা। রোকেয়ার সংগ্রাম শুরু হয়েছিল গ্রাম থেকে। সেখান থেকেই তিনি যে নারীমুক্তির আলোর শিখা জ্বেলে গেছেন তা আজও আমাদের সার্বিক মুক্তির পথে প্রেরণা যোগাচ্ছে।


অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমিন বলেন, রোকেয়া তার বস্তুবাদী ও জ্ঞানতাত্ত্বিক নারী-ভাবনায় বঞ্চিত নারীদের মর্যাদা দিয়েছেন। নারীদের অবরোধ ভেঙ্গে পুরুষের সঙ্গে সংগ্রাম করে উভয়ের জন্য উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে গেছেন। রোকেয়া বাঙালি মুসলমান সমাজের পরিসরে অবস্থান করে এই বিভাজনের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক উভয় দিক থেকে লড়াই করেছেন।


তিনি বলেন, উনিশ ও বিশ শতকে সাবিত্রী দেবী ফুলে, প-িতা রমাবাঈ, সরলা দেবী ও রোকেয়া নারী মুক্তির জন্য বৈপ্লবিক পথরেখা নির্ধারণ করে পৃথিবীতে নারীর অনগ্রসরতার বিষয়গুলো চিহ্নিত করে কাজ করেছেন।


অধ্যাপক পারভীন হাসান বলেন, রোকেয়ার কালজয়ী আদর্শের পথ ধরেই আমরা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য একটি মাঙ্গলিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হবো। রোকেয়া তাঁর ব্যক্তি ও সাহিত্য জীবনে ছিলেন চিন্তাশীল এবং মনিষীরূপে। রক্ষণশীল সমাজের ভেতর অবস্থান করেও অনেক সংগ্রাম করে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়ে গেছেন।