ঢাকা, রবিবার ০৮, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০:৪৩:২৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বন্ধ হয়ে গেলো রাসমেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:৪১ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০২১ বুধবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সুন্দরবনের দুবলারচরে অনুষ্ঠিত রাসমেলা এবার আর হচ্ছে না। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য স্থায়ীভাবে এ মেলার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সিদ্ধান্ত জারি করা হয়।

এ ব্যাপারে সুন্দরবনসংলগ্ন ১০ জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলাগুলো হলো, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার।

চিঠিতে বলা হয়, ‘ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয় বিধায় রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা রাসপূজা ও পুণ্যস্নানের জন্য যেতে পারবেন। কিন্তু ওই সময় অন্য ধর্মানুসারীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন না।’

সাধারণত প্রতিবছর নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে সুন্দরবনের দুবলারচরে রাসপূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরও চলতি মাসের ১৭ থেকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত এই মেলা হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন নির্দেশের ফলে এ বছর মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে না।

প্রতিবছরই এ মেলায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিতেন। মেলাকে কেন্দ্র করে এতো মানুষের সমাগমের ফলে সুন্দরবনের বিপুল ক্ষতি হয়। এ সময় হরিণ শিকার ও গাছ কাটার পাশাপাশি মানুষের ফেলে যাওয়া বর্জ্যে পরিবেশ দূষণ হয়। বন বিভাগ থেকে সুন্দরবনের এসব ক্ষতির বিষয় তুলে ধরে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও সফল হয়নি। যে কারণে তারা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অর্থাৎ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের কাছে মেলাটি বন্ধের অনুরোধ জানায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও কি ব্যবস্থা নিয়েছে সে সম্পর্কেও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কাদির বলেন, ‘রাসমেলা হিন্দুধর্মের অনুসারীদের জন্য হলেও সেখানে অন্য ধর্মের মানুষরাও আসেন। এতা মানুষের আগমনে বনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। দুবলারচরে রাসমেলা বন্ধ করা হলেও, তা খুলনা বা বাগেরহাটের আশপাশের কোনো এলাকায় করার ব্যাবস্থা করা হবে।’

বঙ্গোপসাগরের বুকে কুঙ্গা এবং মরা পশুর নদীর মোহনায় জেগে ওঠা দুবলারচরে প্রতিবছর কার্তিক মাসের শেষ বা অগ্রহায়ণের শুরুতে শুক্লপক্ষের পূর্ণিমায় রাসমেলা বসে। এসময় হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীরা পুণ্যস্নানের জন্য দলে দলে এ চরে আসেন। তখন হিন্দু সম্প্রদায় ছাড়াও অন্য ধর্মাবলম্বী হাজার হাজার মানুষ এ চরে জড়ো হয়।

প্রায় আড়াই শ’ বছর আগে যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যের শাসনামলে এই মেলা চালু হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে যাঁরা কৃষ্ণের অনুসারী তারা ওই দিনটি রাধা ও কৃষ্ণের বিহারের সময় হিসেবে এই পূজা ও মেলা শুরু করেন।