মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার আহ্বান মালালার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৭:৪৭ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০২১ মঙ্গলবার
ফাইল ছবি
পাকিস্তানের নারী অধিকারকর্মী মালালা বিবিসির অ্যান্ড্রু মার শোতে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি এই শোতে বলেন,আমার আশঙ্কা—আজকে যে নিষেধাজ্ঞাকে তারা অস্থায়ী বলছেন—তা সম্ভবত অস্থায়ী না। ১৯৯৬ সালেও এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, যা পাঁচ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
গেল আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তালেবান। ছেলেদের স্কুল খুলে দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত মাধ্যমিক স্কুল মেয়েদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।
তবে ইসলামিক আইন অনুসারে আলাদা শিক্ষার ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর মেয়েদের জন্য স্কুল খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে তালেবান।
মালালা বলেন, মেয়েদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অতিসত্বর পরিপূর্ণভাবে খুলে দিতে আমি তালেবানের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
মালালা আফগানিস্তানে নারীদের অধিকার নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিতে জি ২০ ও বিশ্ব নেতাদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বললেন, স্কুলে যাওয়ার যোগ্য মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। আমরা কোনো বিশেষ কিংবা অতিরিক্ত সুবিধা দাবি করছি না, এটি মৌলিক মানবাধিকার।
অন্যদিকে,সদ্য বিয়ে করে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন মালালা। এক সময়কার একটি সাক্ষাৎকারে বিয়ে নিয়ে মালালার মন্তব্য ঘিরে চলছে সমালোচনা।
ব্রিটিশ ভোগ সাময়িকীকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে মালালা বলেছিলেন, আমি এখনও বুঝি না মানুষ কেন বিয়ে করে। আপনি একটা মানুষের সঙ্গে থাকতে চাইলে এর জন্য কাগজপত্র সই করার দরকার কী? কেন দুজন মানুষ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে জীবন ভাগ করে নিতে পারে না?
গত জুলাইয়ে ওই মন্তব্য করেছিলেন মালালা। এরপর গত সপ্তাহেই তিনি আসার মালিকের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন। লন্ডনে তাদের বিয়ে হয়। মঙ্গলবার মালালা এক টুইটে সে খবর দেওয়ার পরই বিয়ে নিয়ে আগেকার ওই মন্তব্যের জন্য সমালোচিত হচ্ছেন তিনি।
এই সমালোচনার মুখে মালালা বিয়ে নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন। বলেছেন, তিনি কখনওই বিয়ের বিরুদ্ধে ছিলেন না, বরং বিয়ে নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।
শান্তিতে নোবেলজয়ী এই নারী বলেন, এটি সত্য যে বাল্যবিবাহ, বিচ্ছেদ… এবং ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতার খবর দেখা বিশ্বের অনেক মেয়ের মধ্যেই এমন উদ্বেগ রয়েছে। এই ব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা, একজন পুরুষের চেয়ে নারীর অনেক বেশি আপস করে নেওয়া, পিতৃতন্ত্র ও স্ত্রী বিদ্বেষের প্রভাবে গড়ে ওঠা প্রথা নিয়ে চলতে হচ্ছে। তাই আমরা যে সিস্টেমের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে।
তিনি বলেন, আমার মূল্যবোধ বোঝেন এমন একজন স্বামী খুঁজে পেয়ে আমি সত্যিই ভাগ্যবান।
