আসপিয়ার চাকরি নিয়ে যা বললেন ডিআইজি আক্তারুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৪৪ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০২১ শুক্রবার
ফাইল ছবি
স্থায়ী ঠিকানার অভাবে বরিশালে পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চাকরি হচ্ছে না হতদরিদ্র আসপিয়া ইসলাম কাজলের।
অথচ নিয়োগ পরীক্ষায় সব ধাপে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে মেধা তালিকায় পঞ্চম হয়েছেন তিনি।
পুলিশ ভেরিফিকেশনে আটকে যাওয়া নিশ্চিত চাকরি হাতছাড়া হওয়ার হতাশায় বুধবার বরিশাল পুলিশ লাইন্সের গেটে দীর্ঘক্ষণ বসেছিলেন আসপিয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল সেই ছবি। দেশজুড়ে সবাই চাইছেন আসপিয়ার চাকরি হোক। এ বিষয়ে অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামানও চাইছেন, আসপিয়ার চাকরি হোক। তবে নিয়মে পাবন্দী তিনি।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে 'মানবতা ও বিধি-বিধান' শিরোনামে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান।
সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আসপিয়ার চাকরি না পাওয়ার বিষয়টি দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে ফেসবুক, নিউজ পোর্টালে। আছপিয়ার পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে যারা সরকারি চাকরির বিধান জানেন তারা আছপিয়ার পক্ষ নিতে পারছেন না। মূলত আসপিয়া বরিশালের স্থায়ী ঠিকানা প্রমাণ করতে পারছেন না। সে সরল ভুলে ভোলার পরিবর্তে বরিশালে চাকরি প্রার্থী হয়েছে। আছপিয়াকে সান্ত্বনা দেই।’
ডিআইজি আরো লিখেছেন, ‘বিধি মোতাবেক পুলিশ কাজ করবে। আমি বিধি মানি, কিন্তু মেয়েটির প্রতি আমার কষ্টবোধ থেকেই যায়। যারা তাকে নিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল করছে, তাদের দোয়ায়, কাজে যদি মেয়েটি চাকরি পায় তাতে আমি অনেক খুশি হব। আর এর জন্য আমাকে যে মানসিক চাপ নিতে হচ্ছে তা সাহসে পরিণত হবে। দোয়া করি, মেয়েটির ভাগ্যে সোনার হরিণটি (চাকরি) যেন ধরা দেয়।’
উল্লেখ্য, আসপিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্রে দেওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, তিনি বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার বড় জালিয়া ইউনিয়নের খুন্না গোবিন্দপুর গ্রামের মাতব্বর বাড়ির বাসিন্দা।
সপরিবারে মাতব্বর বাড়ির মেজবাহ উদ্দিন অপু চৌধুরীর বাড়িতে থাকেন আছপিয়া। তার বাবা মৃত শফিকুল ইসলাম ভোলা জেলার চরফ্যাশনের নিজের বাড়ি থেকে প্রায় ২৫-৩০ বছর আগে হিজলা উপজেলায় এসে বসবাস শুরু করেন। তিনি ব্যবসা করতেন।
তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিজলা থানার এসআই (উপ-পরির্দশক) আব্বাস উদ্দিন জানিয়েছেন, আসপিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা হিজলার স্থায়ী বাসিন্দা নন। তাদের দাদার বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায়। তিনি যেভাবে পেয়েছেন সেভাবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
তবে হিজলার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ জানান, আসপিয়া তার দুঃসম্পর্কের ভাতিজি। হিজলায় আছপিয়া জন্মেছে। এই পরিবারের দীর্ঘ বছর এখানে বসবাস করেন।
বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) ইকবাল হোছাইন বলেন, চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী যে জেলা থেকে নিয়োগ পরীক্ষা দেবেন সে জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। আছপিয়ার ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, সরকারি হিজলা ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২০ সালে এইচএসসি পাশ করেছেন আসপিয়া। বরিশাল জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে অনলাইনে আবেদন করলে গত ১৪, ১৫ ও ১৬ নভেম্বর জেলা পুলিশ লাইন্সে শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৭ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলে মেধা তালিকায় পঞ্চম হন। ২৬ নভেম্বর জেলা পুলিশ লাইনে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন আসপিয়া। সবশেষ ২৯ নভেম্বর ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন সেন্ট্রাল হাসপাতালে চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়। সেখানেও উত্তীর্ণ হন এই তরুণী।
