বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ
বাসস
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:২১ এএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ বৃহস্পতিবার
ফাইল ছবি
একে একে পেরিয়ে গেল ৫০ বছর; জন্মের সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ। আনন্দের এই ক্ষণে স্মরণীয় সেই রক্তাক্ত লড়াই, যার মধ্যে দিয়ে বাঙালি পেয়েছে একটি দেশ, একটি পতাকা।
দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনে নিষ্পেষিত, রিক্ত বাঙালি কি এমন মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল অসম একটি যুদ্ধে? কতটা দূরূহ ছিল স্বাধীনতার পথ?
ঊনিশশ সাতচল্লিশ, ভারতীয় উপমহাদেশে অবসান ঘটে ব্রিটিশ শাসনের; কিন্তু তারপরও মুক্তি মেলেনি বাংলার মানুষের। ইংরেজ থেকে পাকিস্তানি- বন্দিদশার বদল শুধু।বাঙালির জীবন বাঁধা পরাধীনতার একই শেকলে।
সেই শেকল ভাঙার মন্ত্রে বাঙালিকে জাগিয়ে তোলেন শেখ মুজিব, বাংলার মানুষ যাকে ভালোবেসে নাম দিয়েছে বঙ্গবন্ধু।
বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতার অমোঘ পথে চলা শুরু তখন থেকেই।
সত্তরের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিজয় সরকার গঠনের পথ খুলে দিলেও পাকিস্তানিদের হঠকারিতায় আবারও আশাহত বাঙালি।
এরপর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ- সাতই মার্চ। শোষণমুক্তির মন্ত্রে উজ্জীবিত বাঙালির স্বাধীনতার ডাক এসেছিল ১৯৭১ সালের এই দিনে।
চারদিকে গুঞ্জন - বঙ্গবন্ধু সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পারেন। তাই সকাল থেকেই তাই লাখো জনতার ভিড় তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)।
বেলা সোয়া ৩টায় শেখ মুজিবুর রহমান সভামঞ্চে উপস্থিত হলে মূহুর্মূহু ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে প্রকম্পিত ঢাকার আকাশ-বাতাস।
স্বাধীনতার জন্য উন্মুখ উত্তাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে ২৩ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু ছড়িয়ে দিলেন সেই মন্ত্র-
“আমরা যখন মরতে শিখেছি; কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।
“রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
কবি নির্মলেন্দু গুণের ভাষায় ‘তারপর থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের’।
সেই রাতেই আওয়ামী লীগ ১০ দফার ভিত্তিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়। ঘটনাপ্রবাহ এগোতে থাকে চূড়ান্ত লগ্নের দিকে।
বঙ্গবন্ধুর সেই বজ্রবাণীর পর ২৫ মার্চ ঢাকায় যে বিভীষিকা নামিয়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী; তা একটি প্রতিরোধ যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেয় দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাঙালিকে।
২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বেতারবার্তায় যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, সেই মুহূর্তে পাকিস্তানি হানাদারের গুলি আর বেয়নেটে ক্ষতবিক্ষত দেশ।
শুরু হয় অবধারিত লড়াই, বাঙলার মাটি সিক্ত হয় ৩০ লাখ শহীদের রক্তে, সম্ভ্রম হারানো অসংখ্য নারীর আর্তনাদে।
অবশেষে নয় মাসের তুমুল জন্ম যন্ত্রণার পর একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর প্রতাপশালী পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে আসে সেই আরাধ্য স্বাধীনতা।
এ বছর বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী। এবারের বিজয় দিবস জাতির কাছে একটু আলাদা রকমের অনুভূতির। ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করার পর এ বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে বাংলাদেশ।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বাণীতে দেশবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তারা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, অগণিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের আত্মত্যাগের কথা, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছিল। মহান বিজয় দিবস উদযাপনে এবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রত্যুষে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
এ ছাড়া, জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দসহ বিদেশি অতিথিরা। বরাবরের মতো থাকবে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর আলাদা আলাদা কুচকাওয়াজ। আকাশে মহড়া দেবে হেলিকপ্টার ও জঙ্গি বিমান। থাকবে ট্যাংক বহরসহ সমরাস্ত্রের আলাদা প্রদর্শনী। সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেডের পাশাপাশি বৈমানিকদের কসরত, প্যারাসুট জাম্পসহ রয়েছে নানান আয়োজন। বিশেষ কুচকাওয়াজে অংশ নেবে ভারত, রাশিয়া, ভুটান, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দুই দিনের অনুষ্ঠানমালার মূল আয়োজন হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ প্রতিপাদ্যে ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর এসব অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি প্রায় তিন শতাধিক অতিথিরা অংশ নেবেন।
এ ছাড়া, ১৬ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে প্রধানমন্ত্রী সারা বাংলাদেশে একটি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন, সেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন।
আজ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আজ সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে।
