এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে অনন্য নজির গড়েছিল ভারত
বাসস
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৮:২৫ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ বৃহস্পতিবার
ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের এক কোটি শরণার্থীকে ভারতবাসী আশ্রয় দিয়েছিল। যা ইতিহাসে অনন্য নজির হয়ে থাকবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭ টার দিকে মহান বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘মহান বিজয়ের মহানায়ক’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধী মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সাহায্য করেছিলেন। বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা পেয়েছে। জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করা এটাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ৫০ বছর আমাদের স্বাধীনতার, আমরা কতদূর এগুতে পেরেছি সেটাই বড় কথা। দারিদ্র্যের হার আমরা ৪০ ভাগ থেকে ২০ ভাগে নামিয়েছি। আজকে প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো আমরা পৌঁছে দিয়েছি। বাংলাদেশের প্রতিটি গৃহহারা মানুষ, ভূমিহীন মানুষকে আমরা বিনা-পয়সায় ঘর দিচ্ছি। এ লক্ষ্য ইনশাল্লাহ আমরা পূরণ করতে পারব, যেটা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল। জাতির পিতা চেয়েছিলেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। আর আমাদের সেটাই লক্ষ্য।
তিনি আরো বলেন, আজকের বাংলাদেশ আমাদের মাথাপিছু আয় ২৫৫৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। যদিও কোভিড-১৯ আমাদের অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। কিন্তু তারপরেও আমরা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করে অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছি। আমরা গ্রামীণ অর্থনীতিকে উন্নত করার পদক্ষেপ নিয়েছি। তাছাড়া আমরা সকল দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছি। যেটা জাতির পিতা আমাদের পররাষ্ট্র নীতি দিয়েছিলেন সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়, আমরা সেই পররাষ্ট্র নীতি নিয়েই সকলের সাথে বন্ধুত্ব রেখেই আমাদের দেশের উন্নয়নের চাকাকে সচল রেখেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষ সমানভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে এবং তারা পালন করছে। সেটা আমরা নিশ্চিত করেছি। বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমাদের লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হবে। আজকে সেটা আমরা অর্জন করেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলব। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বিজয়ের উৎসব আমরা ব্যাপকভাবে উদযাপন করেছি। করোনার কারণে আগে আমরা করতে পারিনি। তবে এবার আবার আমরা নতুন উদ্যমে আমরা আমাদের বিজয়ের এই উৎসব করেছি এবং এই উৎসব শুধুমাত্র উৎসব না এই উৎসব আমাদের আগামী দিনের চলার পথের প্রতিজ্ঞা যে, বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে ইনশাল্লাহ আমরা গড়ে তুলব।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ শিরোনামে বৃহস্পতি ও শুক্রবার (১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়োজনের প্রথমদিন ১৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
