দুস্থ, অসহায়দের অধিকার রক্ষায় কাজ করুন : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৯:৪৪ পিএম, ১ জানুয়ারি ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০৭:৫৪ পিএম, ২ জানুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার সুরক্ষায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয় সমাজসেবা দিবস উপলক্ষে দেয়া আজ এক বাণীতে তিনি এ আহবান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দেশের দুস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজের সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে সক্ষম হব।’
প্রতি বছরের মতো দেশে এবারো আগামীকাল মঙ্গলবার ‘জাতীয় সমাজসেবা দিবস-২০১৮’ পালন করা হচ্ছে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘নারী-পুরুষ নির্বিশেষ, সমাজসেবায় গড়বো দেশ’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অসহায় ও অনগ্রসর মানুষের উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি প্রবর্তন এবং শিশুদের সুরক্ষা ও উন্নয়নে শিশু আইন, ১৯৭৪ প্রণয়নসহ কেয়ার এন্ড প্রটেকশন সেন্টার (সরকারি শিশু পরিবার) প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি বলেন, বিগত ৯ বছরে দেশের সুস্থ, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত শিশু, প্রতিবন্ধী, কিশোর-কিশোরী, স্বামী নিগৃহিতা মহিলা ও প্রবীণ ব্যক্তিবর্গসহ অসহায় মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা ও মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সকল খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যথা হিজড়া, বেদে ও দলিত সম্প্রদায়ের উন্নয়নে আমরা প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। শহর সমাজসেবা কার্যক্রম, হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম ও মাতৃকেন্দ্রসমূহ বিভিন্ন ধরণের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যক্তি (পুনর্বাসন) আইন ২০১১, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩, নিউরো-ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন ২০১৩ এবং পিতামাতার ভরণ-পোষণ আইন ২০১৩, শিশু আইন ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দ্রুত ও সহজে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ই-পেমেন্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা শিশুদের সহায়তায় চাইল্ড হেল্প লাইন ১০৯৮ (টোল ফ্রি) সেবা চালু করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তমূলক কর্মসূচি সমন্বয় ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ‘সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা ‘জাতীয় সমাজসেবা দিবস ২০১৮’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
