তালাবদ্ধ ঘর থেকে নানি-নাতির লাশ উদ্ধার
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ১০:২১ পিএম, ৪ জানুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০২:৩৯ পিএম, ৬ জানুয়ারি ২০১৮ শনিবার
সিদ্ধিরগঞ্জে নিখোঁজের ৬দিন পর নানি-নাতির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী মধ্যপাড়া এলাকার ইতালী প্রবাসী তোফাজ্জলের বাড়ির তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- নানি পারভীন আক্তার (৫০) ও নাতি মেহেদী হাসান (৯)। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত মেহেদী হাসানের বাবা নবী আউয়ালকে পুলিশ আটক করে।
জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী এলাকায় ইটালী প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের টিনশেড বাড়িতে নবী আউয়াল তার শাশুড়ি পারভীন আক্তার ও ছেলে মেহেদী হাসান এবং মেয়ে ফাহিমা আক্তারকে সাথে নিয়ে ভাড়ায় বাস করত। এক বছর আগে নবী আউয়ালের দ্বিতীয় স্ত্রী শিল্পী বেগম সৌদি প্রবাসী হন।
গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে শাশুড়ি ও ছেলে নিখোঁজ ছিল। তাদেরকে না পেয়ে নবী আউয়াল বুধবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। জিডিতে উল্লেখ করেন ৩০ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় শাশুড়ি পারভীন আক্তার (৫০) ও ছেলে মেহেদী হাসান (৯) ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেন নি। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে শাশুড়ি ও ছেলে খুন হয়েছে বলে পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়ির একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে অর্ধগলিত দুটি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ১শ` শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠায়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সাত্তার জানান, পারিবারিক কলহের কারণে এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে। নিহত পারভীন আক্তারের স্বামীর নাম মৃত আব্দুর রহিম।
ঘটনাস্থলে যাওয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরফুদ্দিন জানান, মেয়ের জামাই নিজেই সংবাদ দিয়েছে ছেলে ও শাশুড়িকে কে বা কারা হত্যা করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করা হয়েছে। লাশ দেখে ধারণা করা হচ্ছে ৫ থেকে ৬দিন আগেই গলাটিপে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, নবী আউয়াল দুটি বিয়ে করেছেন। ছোট স্ত্রী শিল্পী বেগম এক বছর ধরে সৌদি প্রবাসী। তারই সন্তান মেহেদী হাসান। শিল্পী তার মা পারভীর আক্তারের নামেই টাকা পাঠাতেন। এই টাকা নিয়ে শাশুড়ির সাথে জামাতার প্রায়ই ঝগড়া হতো। তার বড় স্ত্রী একই নামে শিল্পী বেগম লেবানন প্রবাসী।
নবী আউয়ালের গ্রামের বাড়ি সোনারগাঁয়ের বাংলাবাজারের দড়িকান্দি এলাকায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন।
