ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৬, মার্চ ২০২৬ ৩:০৩:৩৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

৪ বছর ধরে ঘুমাননি তিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:২৭ পিএম, ৮ জানুয়ারি ২০২২ শনিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মালগোরজাটা স্লিউইন্সকা নামে ৩৯ বছর বয়সী নারী গত ৪ বছর ধেরে ঘুমাতে পারেননি। পরে ডাক্তারের কাছে গেলে জানতে পারেন তিনি সোমনিফোবিয়া রোগে আক্রান্ত। খবর দ্য সানের।

সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোল্যান্ডের নারী মালগোরজাটা স্লিউইন্সকা একটি হেলথ ফুড কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তার কিশোর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। সবকিছু সামলে তিনি যখন ঘুমাতে যান তার ঘুম আসে না। তিনি এপিঠ ওপিঠ করেন, এরকম করতে করতেই রাত শেষ হয়ে যায় কিন্তু ঘুম আর আসে না। টানা চার বছর ধরে তিনি এ সমস্যায় ভুগছেন।

তিনি জানান, চার বছর আগে তার জীবনটা এমন ছিল না। অন্য সব মেয়েদের মতোই তারও একটি সুন্দর জীবন ছিল। স্বামী-সন্তান চাকরি নিয়ে ভালোই চলছিল তার জীবন। 

তিনি জানান, সেদিন ছিল ২০১৭ সালের সে্প্টেম্বর মাসের রোববারের একটি সন্ধ্যা। তিনি তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্পেন ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফিরেছেন। কোনো কারণে তার ঘুমাতে যেতে দেরি হয়। এরপর তিনি ঘুমাতে যান এবং ভাবতে থাকেন পরদিন তার কি কি কাজ করতে হবে। পরে তিনি এপিঠ ওপিঠ করেন কিন্তু ঘুম আর ধরে না। এরকম করতে করতে ভোর সাড়ে ৫টা বেজে যায়। এরপর তিনি উঠে বাড়ির কাজ সেরে অফিসে যান। ফিরে এসে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেদিনও একই ঘটনা ঘটে। 

ফলে তার চোখ ব্যথা হয়ে যায় এবং মাথাও ব্যথা হতে শুরু করে। হঠাৎ তার শরীরে এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়, কিছুতেই তার ঘুম আসে না। এ সমস্যার কারণে তার জীবন পুরো নষ্ট হয়ে গেছে বললে ভুল হয় না। শুধু তার শারীরিক সমস্যা নয়, এ রোগের কারণে তার পারিবারিক জীবনও সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মালগোরজাটা স্লিউইন্সকা জানিয়েছেন, এ রোগের কারণে তার চোখ জ্বলতে শুরু করে এবং শুকিয়ে যায়। একটানা ঘুম না আসার কারণে খুবই ক্লান্তির সৃষ্টি হয়। তার শর্ট টার্ম মেমোরি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে এবং তিনি কোনো কারণ ছাড়াই কাঁদতে শুরু করে দেন। এ রোগ তার শরীরের ক্ষতির সঙ্গে সঙ্গে তার চাকরিও কেড়ে নিয়েছে।

এ রোগের চিকিৎসার পেছনে তার জমানো সব টাকা নষ্ট হয়ে গেছে, কিন্তু কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এ ধরনের রোগের কারণে স্বামী এবং ছেলের সঙ্গেও তার সম্পর্ক নষ্ট হতে শুরু করেছে। 

৪ বছর পর পোল্যান্ডের এক ডাক্তারের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, তিনি সোমনিফোবিয়া রোগের শিকার। সেই ডাক্তারের ওষুধে মালগোরজাটা স্লিউইন্সকা এখন সপ্তাহে মাত্র ২-৩ রাত ঘুমাতে পারেন। এছাড়া তিনি শুরু করেছেন ধ্যান এবং ব্যায়াম। একই সঙ্গে মালগোরজাটা স্লিউইন্সকা পার্ট টাইম চাকরিও শুরু করেছেন। 

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আবার আগের মতো দিনগুলো আমি যদি ফিরে পেতাম!