পাকিস্তানে জয়নাব হত্যা : সন্তান কোলে উপস্থাপিকার প্রতিবাদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৬:০৮ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০৮:৪৩ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ শনিবার
পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশে ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশ। গত দুদিনের বিক্ষোভ-সংঘর্ষে অন্তত দুজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো অনেকেই।
ওই ঘটনার প্রতিবাদে এক সংবাদ পাঠিকা এক ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদ জানালেন। বুধবার নিজের মেয়েকে কোলে নিয়ে খবর পড়লেন দেশটির সামা টিভির নারী সংবাদ উপস্থাপক কিরণ নাজ।
কিরণ নাজ খবর উপস্থাপন করার সময় বলেন, ‘আজকে আমি কিরণ নাজ হিসেবে আপনাদের সামনে উপস্থিত হইনি। একজন মা হিসেবে আপনাদের কাছে এসেছি। তাই নিজের মেয়েকে নিয়ে হাজির হয়েছি।’
কিরণ বলেন, ‘জয়নাবের বাবা-মা তাকে এক আত্মীয়র বাড়িতে রেখে সৌদিতে ওমরাহ পালন করতে গিয়েছিলেন। মেয়ের জন্য যখন বাবা-মা প্রার্থনা করছিলেন, তখন নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হলো শিশুটিকে।’ এ সময় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন কিরণ।
তিনি বলেন, পাকিস্তানে একটা দৈত্য ধর্ষণ করে জয়নাবের দেহ ছুড়ে ফেলে আবর্জনার স্তূপে। এর চেয়ে ভাগ্যের পরিহাস আর কী হতে পারে! এটা শুধু একটা বাচ্চার ধর্ষণ ও খুন নয়, আমাদের সমাজ, মানবতাই খুন হয়েছে।
সামা টেলিভিশনের সন্ধ্যা ৭টায় প্রচারিত বুলেটিনের প্রথম দেড়মিনিট কিরণ নাজ তার ছোট মেয়েকে নিয়ে বসে সংবাদপাঠ করেন। সেই দেড়মিনিট বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বিক্ষোভ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে জয়নাবের বাবা মোহাম্মদ আমিন বলেন, ‘জয়নাবকে যখন অপহরণ করা হয়, তখনই যদি পুলিশ কিছু করত, তা হলে হয়তো ওকে মরতে হতো না।’
পুলিশে ওপর আস্থা নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মনে হচ্ছে যেন আমার পৃথিবী শেষ হয়ে গেছে।
জয়নাবের মায়ের দাবি, শুধু বিচার চাই। আর কিছু বলার নেই।
গত সপ্তাহে কুরআন শেখার জন্য পাশের একটি বাড়িতে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় জয়নাব আনসারি। ওই সময় শিশুটির বাবা-মা সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। পরে বুধবার তারা দেশে ফিরে আসেন। একটি আবর্জনার স্তুপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
