ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪, জুলাই ২০২৬ ৭:৫২:২৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

১৩ সন্তানকে শেকলে বেঁধে নির্যাতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০২:১৯ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ১২:৪৬ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৮ বুধবার

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে এক বাড়িতে ১৩ ছেলেমেয়েকে বিছানার সঙ্গে শেকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে তাদের বাবা-মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 


প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই থেকে ২৯ বছর বয়সী ওই ১৩ ছেলেমেয়ের মধ্যে কয়েকজনকে বিছানার সঙ্গে শেকল বেঁধে আটকে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ দিন ধরেই এ অবস্থা চলছিল।

 

গত রোববার একটি মেয়ে পালাতে সক্ষম হয়। পরে সে বাড়ির একটি মোবাইল ফোন থেকে পুলিশের জরুরি নম্বরে ফোন করে নিজেদের দুর্দশার কথা জানায়। পরে পুলিশ বাকি ভাই-বোনকে উদ্ধার করে।উদ্ধার পাওয়া এই ১৩ শিশু-কিশোর-তরুণের সবাই আপন ভাইবোন। আর নিপীড়ক দুই নরনারী তাদেরই বাবা-মা ডেভিড অ্যালান ট্রুপিন (৫৭) ও লুইস আনা ট্রুপিন (৪৯)।

 


রিভারসাইডের শেরিফের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যে মেয়েটি পুলিশকে ফোন করেছিল তার বয়স মাত্র ১০ বছর। একেবারেই জীর্ণশীর্ণ অপুষ্ট চেহারা তার। পুলিশকে সে জানায়, তার আরও ১২ ভাইবোনকে আটকে রেখেছে তাদের বাবা-মা।

 


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই দম্পতি ছেলেমেয়েদের এভাবে আটকে রাখার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি বলে জানানো হয় শেরিফের বিবৃতিতে।

 

পুলিশ পরে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখতে পায়, অভিনব কায়দায় আটকে রাখা হয়েছে। কয়েকজন শিশুকে অন্ধকার ঘরে দুর্গন্ধময় নোংরা পরিবেশে বিছানার সঙ্গে আংটা, শেকল আর তালা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। 

 


পুলিশ কর্মকর্তারা রীতিমত বিস্মিত হয়েছেন এটা দেখে যে, ওই ১৩ ভাইবোনের মধ্যে সাতজনের বয়সই ১৮ বছরের বেশি। তাদের সবাইকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অবাক বিষয় ওই বাবা পেশায় একজন শিক্ষক। 

 

এদিকে বাড়িটিকে দেখানো হয়েছে একটি দিবা স্কুল হিসেবে যেটার প্রিন্সিপ্যাল ডেভিড ট্রুপিন। সেই স্কুলটি ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এতে প্রথম থেকে একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রী থাকার কথা বলা হয়েছে এবং সরকারি নথি বলছে এটি একটি সক্রিয় স্কুল।

 

 

তবে ট্রুপিনদের প্রতিবেশীরা জানায়, তারা শুধু জানে এই বাড়িতে বিশাল এক পরিবার বাস করে। কিন্তু সে পরিবারের সদস্যদের তারা সহসা দেখেনি। কেউ কেউ বলেছেন, তারা সকালে ট্রুপিনদের বাবা-মাকে গ্রেফতার হতে দেখেছে, তখন তারা সন্তানদের দেখতে পেয়েছেন। সন্তানরা অনেক শীর্ণ ও ফ্যাকাসে দেখতে।

 


একজন প্রতিবেশী বলেন, এটা খুবই ভয়ংকর ব্যাপার। আমি এটি বিশ্বাস করতে পারছি না।

 


গ্রেফতার হওয়া দম্পতির বিরুদ্ধে সন্তানদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।