ঢাকা, বুধবার ২৫, মার্চ ২০২৬ ১৮:৫১:০৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ভারতের হিজাব বিতর্ক নিয়ে যা বললেন মালালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:২৬ এএম, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ বুধবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে স্কুল-কলেজে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরা নিয়ে যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ পাকিস্তানের নোবেলজয়ী শিক্ষা ও নারী অধিকার কর্মী মালালা ইউসুফজাই বলেছেন, ভারতীয় নেতাদের অবশ্যই মুসলিম নারীদের প্রান্তিকীকরণ বন্ধ করতে হবে।

মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক টুইট বার্তায় কর্ণাটকের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুসলিম মেয়েদের প্রবেশ করতে না দেওয়া নিয়ে এই উদ্বেগ জানিয়েছেন তিনি।

কর্ণাটকের চলমান পরিস্থিতির ব্যাপারে টুইটে মালালা বলেছেন, মেয়েদের হিজাব পরে স্কুলে যেতে অস্বীকৃতি জানানো ভয়ঙ্কর ঘটনা। নারী কম অথবা বেশি পোশাক পরলেও আপত্তি থাকে। ভারতীয় নেতাদের অবশ্যই মুসলিম নারীদের প্রান্তিকীকরণ বন্ধ করতে হবে।

গত এক মাসের বেশি সময় ধরে কর্ণাটকের বিভিন্ন স্কুল কলেজে একদিকে হিজাব পরে ক্লাস করার অনুমতির দাবিতে আন্দোলন করছে মুসলিম ছাত্রীরা। অন্যদিকে হিন্দু শিক্ষার্থীরা গেরুয়া ওড়না পরে হিজাববিরোধী আন্দোলন শুরু করেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তিনদিনের জন্য সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করলেও মঙ্গলবার সেখানকার একটি কলেজে হিন্দু-মুসলিম শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে।

এ বিষয়ে কর্ণাটকের সরকার স্কুল ও কলেজে মেয়েদের হিজাব পরার বিষয়ে একটি নির্দেশনা দিয়ে জানিয়েছে, যে পোশাক ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সমতার পরিপন্থী সে পোশাক পরা যাবে না।

কর্ণাটকে শ্রেণিকক্ষে হিজাব পরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় গত কয়েকদিন ধরে কিছুটা উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার পরই এমন নির্দেশনা দিল কর্ণাটকের সরকার।

কর্ণাটক সরকার জানিয়েছে, শিক্ষানীতি অনুযায়ী সকল শিক্ষার্থীকে স্কুল কর্তৃক নির্ধারিত একই পোশাক পরে শ্রেণিকক্ষে আসতে হবে। কারণ, তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য। সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীরা কেমন পোশাক পরবে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক করবে।

উদুপি সরকারি স্কুলের পাঁচজন ছাত্রী হিজাব নিয়ে একটি পিটিশন দায়ের করে। মঙ্গলবার এ বিষয়ে নির্দেশনা দিতে পারে রাজ্যটির হাইকোর্ট।

জিও টিভির তথ্য অনুযায়ী ক্ষমতাসীন বিজেপি বলেছে, তার ভারতের স্কুল-কলেজগুলোকে তালেবানি হতে দেবে না। অন্যদিকে মুসলিম ছাত্রীদের এ আন্দোলনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস।

এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি কিছু ছাত্রী হিজাব পরে কলেজে আসলে এটা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ছাত্রীরা হিজাব পরে আসায় কলেজের শতাধিক ছাত্র গেরুয়া চাদর পরে কলেজে আসে। এ সময় ছাত্রীদের কলেজ গেটেই আটকে দেওয়া হয়।

কলেজটির একজন ছাত্র হিজাব, হেডস্কার্ফ পরে শ্রেণিকক্ষে অংশ নিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। কর্ণাটকে হিজাব পরার কারণে কলেজে ঢুকতে না দেওয়ার ঘটনা আগেও একবার ঘটেছিল, এটি দ্বিতীয়।