ঢাকা, শনিবার ০৭, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:২৯:৫৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

মক্তবে ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:০৬ এএম, ৪ মার্চ ২০২২ শুক্রবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে হাফেজ মো. মোরসালিন (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

হাফেজ মো. মোরসালিন বড় সাতাইল বাতাইল জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও আরবির শিক্ষক। তিনি মসজিদ সংলগ্ন একটি কক্ষে থাকতেন। ওই শিশুটিকে মসজিদে মক্তব পড়াতেন মো. মোরসালিন। শিশুটি তার নানার বাড়িতে থাকতেন। গ্রেপ্তার মো. মোরসালিন নীলফামারীর ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নীলফামারীর জোড়াবাড়ী গ্রামের আবদুল্লাহ আল মামুন (২১), গোবিন্দগঞ্জের হিরোকপাড়া গ্রামের আলামিন হোসেন (২২) ও একই উপজেলার জঙ্গলমারা গ্রামের আরাফাত খন্দকারকে (১৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে মো. মোরসালিন ওই শিশুসহ আরও দুই শিশুকে মসজিদে মক্তব পড়ান। পড়া শেষে মো. মোরসালিন গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার বর্ধনকুঠি এলাকার এক ব্যক্তির বাড়িতে মক্তব পড়াতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে রাস্তায় ওই শিশুটির সঙ্গে তার দেখা হলে তাকে মসজিদ সংলগ্ন কক্ষটিতে নিয়ে আসেন। এরপর শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে বাধা দেন শিশুটি। পরে তার গলা টিপে ধরেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটি নিস্তেজ হলে তাকে ধর্ষণ করেন মোরসালিন।

তিনি আরও বলেন, তারপর শিশুটির পরনের হিজাব স্কার্ফ দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে শিশুটিকে হত্যা করা হয়। এরপর মো. মোরসালিন শিশুটিকে সিমেন্টের খালি বস্তায় ঢুকিয়ে দুই কিলোমিটার দূরে সাইকেলের পেছনে ক্যারিয়ারে বেঁধে নিয়ে বর্ধনকুঠি এলাকার একটি বাঁশঝাড়ে ফেলে দিয়ে আসেন। পরের দিন দুপুরে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ওই শিশুটির মামা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে একটি মামলা করেন। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মো. মোরসালিন, আবদুল্লাহ আল মামুন, আলামিন হোসেন ও আরাফাত খন্দকারকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ।

তাদের মধ্যে মো. মোরসালিন, আবদুল্লাহ আল মামুন, আলামিন হোসেন ৩ দিনের রিমান্ডে মো. মোরসালিন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। গ্রেপ্তার অন্যদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

ঘটনাস্থল থেকে মো. মোরসালিন সাইকেলে করে ওই শিশুটির মরদেহ বর্ধনকুঠি এলাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে একটি চায়ের দোকানে লাগানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে। এ জন্য ওই দোকানের মালিককে পুরষ্কার দেন পুলিশ সুপার।