ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৬, জুলাই ২০২৬ ১২:১২:৪৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

নিজেদের ভাষা-সংস্কৃতির মর্যাদা দিন : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ১০:৩৬ পিএম, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১২:২৩ পিএম, ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নিজেদের সংস্কৃতি, নিজেদের ভাষা, নিজেদের শিল্প-সাহিত্যকে যদি আমরা মর্যাদা দিতে না পারি, তার উৎকর্ষ সাধন করতে না পারি, তাহলে জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বের দরবারে আরো উন্নত হতে পারবো না।’

 


প্রধানমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমিতে মাসব্যাপী গ্রন্থমেলার উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।

 


তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে অশুভ পথে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা কখনও ভাষা বা সংস্কৃতির চর্চা করতে জানে না। কারণ, এদের মানসিকতা একটু ভিন্ন।’

 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ হবে অসাম্প্রদায়িক, যে বাংলাদেশ হবে শান্তিপূর্ণ, যে বাংলাদেশে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ তাঁদের ধর্ম-কর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে, এমনকি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরাও তাদের ভাষার চর্চা করতে পারবে। তাছাড়া আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছি। যেখানে হারিয়ে যাওয়া মাতৃভাষা নিয়ে গবেষণা হবে।’

 


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি এবং এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামন নূর।

 


সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ইব্রাহিম হোসেন খান এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি আরিফ হোসেন ছোটনসহ দেশী-বিদেশি লেখক-কবি-সমালোচক, প্রকাশক, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

 


অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০১৭ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ী ১২ জন কবি, সাহিত্যিক ও প্রবন্ধকারের হাতে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক এবং নগদ অর্থের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

 


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে ‘আলোকচিত্রে বাংলা একাডেমির ইতিহাস’ এবং ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ’ শীর্ষক দু’টি বই উপহার দেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

 


ছায়ানটের শিল্পীদের পরিবেশনায় জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে একুশের গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সূচনা সঙ্গীত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারি’ পরিবেশিত হয়। অমর একুশের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

 


বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ীরা হলেন, কবিতায় কবি মো. সাদিক ও কবি মারুফুল ইসলাম, কথা সাহিত্যে মামুন হোসেন, প্রবন্ধে অধ্যাপক মাহবুবুল হক, গবেষণায় অধ্যাপক রফিক উল্লাহ খান, অনুবাদে লেখক আমিনুল ইসলাম ভূইয়াঁ, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাহিত্যে মুক্তিযোদ্ধা কামরুল হাসান ভূঁইয়া ও সুরমা জাহিদ, ভ্রমণ কাহিনীতে শাকুর মজিদ, নাটকে অধ্যাপক মলয় ভৌমিক, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে- মোশতাক আহমেদ এবং শিশু সাহিত্যে ঝর্ণা দাস পুরকায়স্থ।

 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাংলা একাডেমিতে আজকে বইমেলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন হচ্ছে, পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার বই বাংলায় অনুবাদ হচ্ছে, আমাদের বাংলা ভাষার লেখাগুলোও বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, প্রতিবার যখন বইমেলা হয় তখন কোন না কোন দেশের কবি-সাহিত্যিকরা এখানে উপস্থিত হন। যাদের অনেকেই বাংলা ভাষার চর্চা করেন, তারা আমাদের উৎসাহিত করেন এবং বাংলাভাষার মর্যাদা বিশ্বে আরো বৃদ্ধি পায়। ১৯৭৪ সালে বিশ্বের খ্যাতনামা কবি-লেখকদের অংশগ্রহণে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রথম বাংলা সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এর উদ্বোধন করেছিলেন।





প্রধানমন্ত্রী বলেন, বইমেলা কিন্তু কেবল বই কেনাবেচার জন্য নয়। বইমেলা আকর্ষণ করে। আমাদের সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রটা প্রসারিত করে। অজানাকে জানার সুযোগ করে দেয়। কাজেই আমরা নিজেরাই এ বইমেলাকে বলি আমাদের প্রাণের মেলা।

 

 

তিনি বলেন, প্রত্যেক ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে অনুষ্ঠিত এই বইমেলা দেশের অনেক নবীন লেখককে তাঁদের সাহিত্যকর্ম প্রকাশের সুযোগ করে দেয় আবার অনেক পাঠক সৃষ্টি করে। তিনি লেখক, পাঠক এবং পরিবেশক সকলকেই অভিনন্দন জানান এই মেলার মধ্যদিয়ে আমাদের জ্ঞান চর্চার দ্বারকে উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য।

 


উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বইমেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং প্রকাশক ও বিক্রেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

মেলার বাংলা একাডেমি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ৫ লাখ বর্গফুট এলাকায় ৪৫৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭১৯টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার ৫৩৬ বর্গফুট আয়তনের ২৫টি প্যাভেলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ১৩৬টি লিটল ম্যাগাজিনকে লিটল ম্যাগাজিন কর্নারে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

 


ছুটির দিন ব্যতীত বইমেলা প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং ছুুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেলে সেমিনার এবং সন্ধ্যায় মেলা উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।