পর্যটন খাতে ইসলামী দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করতে পারে
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৫:৪৭ পিএম, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ১২:৪৫ পিএম, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বব্যাপী পর্যটন একটি দ্রুত বিকাশমান খাত যা বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পর্যটন শিল্প অন্যতম ক্ষেত্র যেখানে একসঙ্গে কাজ করার বড় সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্র ইসলামী দেশগুলো বৃহত্তর সুযোগ ও সম্ভাবনা খুঁজতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পর্যটন মন্ত্রীদের দশম ইসলামিক সম্মেলনের (আইসিটিএম) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি বলেন, ওআইসিভুক্ত দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে আগামীতে বৃহত্তর পরিসরে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়াতে এই সম্মেলনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। অর্থনৈতিক ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পরস্পরের কাছাকাছি আসা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে এ সম্মেলন নতুন সুযোগ ও দিগন্ত উন্মোচন করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে, ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক বিশ্বাস, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিনিময় নিজেদের মানোন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আ ক ম শাহজাহান কামালের সভপতিত্বে অনুষ্ঠানে ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসুফ বিন আহমেদ আল ওসাইমিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহম্মদ ফারুক খান বিশেষ অতিথি ছিলেন।
পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এস এম গোলাম ফারুক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এছাড়া, নাইজারের পর্যটন মন্ত্রী এবং সম্মেলনের বিদায়ী চেয়ারপার্সন আহমেদ বথু এবং জাতিসংঘোর ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশনের (ইউএনডব্লিউটিও) এশিয়া প্যাসেফিক অঞ্চলের ডেপুটি ডিরেক্টর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে অংশ গ্রহণকারী ৩০টি রাষ্ট্রের ১৫ জন পর্যটন মন্ত্রী এবং প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনের রীতি অনুযায়ী নাইজারের পর্যটন মন্ত্রী এবং সম্মেলনের বিদায়ী চেয়ারপার্সন আহমেদ বথু বক্তব্য শেষে দুই বছরের জন্য আইসিটিএম’র চেয়ারপার্সনশীপ বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আকম শাহজাহান কামালের কাছে হস্তান্তর করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামিক অর্থনীতি একটা নতুন বিষয় হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। এটির বিকাশ অব্যাহত থাকবে এবং সারাবিশ্বের মুসলমানদের দ্বারাই এটি পরিচালিত হবে। ইসলামিক পণ্য ও সেবার বিশ্বব্যাপী সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা এবং একটি বিশাল ভোক্তা থাকার কারণে, বিশ্বাস-ভিত্তিক পণ্য ও সেবার সম্প্রসারণের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি অমুসলিম সম্প্রদায়ের কাছেও এ সকল পণ্য ও সেবা জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তিনি এ সময় ইসলামিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি এ সময় বিশ্বব্যাপী উদ্বাস্তু সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন যাবৎ উদ্বাস্তু সমস্যা মোকাবিলা করে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত বিপুল সংখ্যক উদ্বাস্তু সম্প্রতি আমাদের দেশে প্রবেশ করেছে। নিজ বাসভূমিতে জাতিগত নিধনের ভয়াবহ নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে বাংলাদেশ অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিয়েছে।
তিনি ওআইসিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যারা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে দৃঢ়ভাবে সমর্থন দিয়েছে, তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘পর্যটন উন্নয়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি’।
