শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধায় স্নাত হলেন ফিরোজা বেগম
প্রকাশিত : ১২:০৭ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ বুধবার | আপডেট: ০৩:৩৪ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ বুধবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা :
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগম সর্বস্তরের মানুষের ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্নাত হলেন। বুধবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ আনা হলে শেষবারের মত শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে।সর্বসাধারনের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বিকেল চারটা পর্যন্ত তার দেহ সেখানে রাখা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেল চারটার কিছু পরে একটি লাশবাহী গাড়ি করে সংগীত জগতের মুকুটহীন এই সম্রাগীর মরদেহ গুলশানের আজাদ সমজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। বাদ আছর সেখানে জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরাস্থানে সমাহিত করার কথা রয়েছে।
দুপুর দেড়টায় শিল্পীর মরদেহ ইন্দিরা রোডের বাস থেকে শহীদ মিনারে আনা হয়। এসময় সঙ্গে মেঝ ছেলে হামিন আহমেদ এবং ছোট ছেলে শাফিন আহমেদসহ নিকটাত্মীয়রা শহীদ মিনারে আসেন।
সন্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও দিপু মণি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, শিল্পী হাসেম খান, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুজ্জামানা, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতি বিয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, মহিলা শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, নজরুল সংগীত শিল্পী শাহীন সামাদ, শবনম মোশতারি, ডালিয়া নওশিন, ইয়াসমিন মোশতারি, সাদিয়া আফরিন মল্লিক, শাকিল আনাম, রবীন্দ্র সঙঘীত শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী, গণ সংগীত শিল্পী ফরিক আলমগীর, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, সাম্যবাদী দলের পক্ষ থেকে দিলিপ বড়ুয়া সিপিবি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, রুহিন হোসেন, জাসাসের পক্ষ থেকে আব্দুল মালেক মনির খান, অভিনেতা উজ্জল, হেলাল খান, সংগীত শিল্পী মনির খান, আব্দুল মালেক ও গাজী মাজহারুল ইসলাম, ওয়ার্কাস পার্টির পক্ষে বিমান ও পাটমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন,গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ সাকী শ্রদ্ধা জানান।
কবি কাজী নজরুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে কবির নাতনী খিলখিল কাজী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ শ্রদ্ধা নিবেদন করাসহ চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ড্যাবের পক্ষ থেকে ডা. জেড এম জাহিদ, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু শিল্পীর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান ও বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল আলম খোকন। বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির পক্ষ থেকে দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, শিল্পকলা একাডেমির পক্ষে লিয়াকত আলী লাকী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে হামিন আহমেদ বলেন, নজরুলসংগীত বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের মা যেমন সংগ্রাম করেছেন , কেউ এমন সংগ্রাম করেননি। তিনি সারাটা জীবন আপনাদের দিয়েই গেছেন, সবাই আমাদের আম্মার আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করবেন।
এদিকে শিল্পীর বড় ছেলে তাহসিন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তিনি। তবে তাহসিনের জন্য দাফনে দেরি করা হবে কিনা এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি পরিবারের পক্ষ থেকে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে ফিরোজা বেগম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেন অ্যাপোলো হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার চিন্ময় ভট্টাচার্য।
মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিলো ৮৪ বছর। ডায়ালিসিসের পর জ্ঞান না ফেরায় ফিরোজা বেগমকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তার স্নায়ু কাজ না করায় পরে তা খুলে নিয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
ফিরোজা বেগমের জন্ম ১৯৩০ সালের ২৮ জুলাই ফরিদপুরের গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমান জেলা) রাতইল ঘোনাপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে। তাঁর বাবার নাম খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল এবং মায়ের নাম বেগম কওকাবুন্নেসা। ১৯৫৫ সালে বিরলপ্রজ সুরকার কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁর তিন সন্তান–তাহসিন, হামীন ও শাফীন।
১০.০৯.২০১৪
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগম সর্বস্তরের মানুষের ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্নাত হলেন। বুধবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ আনা হলে শেষবারের মত শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে।সর্বসাধারনের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বিকেল চারটা পর্যন্ত তার দেহ সেখানে রাখা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেল চারটার কিছু পরে একটি লাশবাহী গাড়ি করে সংগীত জগতের মুকুটহীন এই সম্রাগীর মরদেহ গুলশানের আজাদ সমজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। বাদ আছর সেখানে জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরাস্থানে সমাহিত করার কথা রয়েছে।
দুপুর দেড়টায় শিল্পীর মরদেহ ইন্দিরা রোডের বাস থেকে শহীদ মিনারে আনা হয়। এসময় সঙ্গে মেঝ ছেলে হামিন আহমেদ এবং ছোট ছেলে শাফিন আহমেদসহ নিকটাত্মীয়রা শহীদ মিনারে আসেন।
সন্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও দিপু মণি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, শিল্পী হাসেম খান, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুজ্জামানা, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতি বিয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, মহিলা শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, নজরুল সংগীত শিল্পী শাহীন সামাদ, শবনম মোশতারি, ডালিয়া নওশিন, ইয়াসমিন মোশতারি, সাদিয়া আফরিন মল্লিক, শাকিল আনাম, রবীন্দ্র সঙঘীত শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী, গণ সংগীত শিল্পী ফরিক আলমগীর, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, সাম্যবাদী দলের পক্ষ থেকে দিলিপ বড়ুয়া সিপিবি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, রুহিন হোসেন, জাসাসের পক্ষ থেকে আব্দুল মালেক মনির খান, অভিনেতা উজ্জল, হেলাল খান, সংগীত শিল্পী মনির খান, আব্দুল মালেক ও গাজী মাজহারুল ইসলাম, ওয়ার্কাস পার্টির পক্ষে বিমান ও পাটমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন,গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ সাকী শ্রদ্ধা জানান।
কবি কাজী নজরুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে কবির নাতনী খিলখিল কাজী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ শ্রদ্ধা নিবেদন করাসহ চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ড্যাবের পক্ষ থেকে ডা. জেড এম জাহিদ, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু শিল্পীর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান ও বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল আলম খোকন। বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির পক্ষ থেকে দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, শিল্পকলা একাডেমির পক্ষে লিয়াকত আলী লাকী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে হামিন আহমেদ বলেন, নজরুলসংগীত বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের মা যেমন সংগ্রাম করেছেন , কেউ এমন সংগ্রাম করেননি। তিনি সারাটা জীবন আপনাদের দিয়েই গেছেন, সবাই আমাদের আম্মার আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করবেন।
এদিকে শিল্পীর বড় ছেলে তাহসিন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তিনি। তবে তাহসিনের জন্য দাফনে দেরি করা হবে কিনা এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি পরিবারের পক্ষ থেকে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে ফিরোজা বেগম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেন অ্যাপোলো হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার চিন্ময় ভট্টাচার্য।
মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিলো ৮৪ বছর। ডায়ালিসিসের পর জ্ঞান না ফেরায় ফিরোজা বেগমকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তার স্নায়ু কাজ না করায় পরে তা খুলে নিয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
ফিরোজা বেগমের জন্ম ১৯৩০ সালের ২৮ জুলাই ফরিদপুরের গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমান জেলা) রাতইল ঘোনাপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে। তাঁর বাবার নাম খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল এবং মায়ের নাম বেগম কওকাবুন্নেসা। ১৯৫৫ সালে বিরলপ্রজ সুরকার কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁর তিন সন্তান–তাহসিন, হামীন ও শাফীন।
১০.০৯.২০১৪ 