ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ১৩:১৯:০৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

মাতৃত্বকালীন ছুটি চার মাসই রইলো

প্রকাশিত : ১০:১৯ এএম, ৩ ডিসেম্বর ২০১৩ মঙ্গলবার | আপডেট: ১০:১৯ এএম, ৩ ডিসেম্বর ২০১৩ মঙ্গলবার

bangladeshআফরোজা ফিরোজ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম ঢাকা : নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ চার মাসই বহাল রইলো৷ নারী শ্রমিকদের ছুটি ৪ মাস বাধ্যতামূলক এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বছরে দুটি গ্র্যাচুইটির প্রসত্মাব রেখে সমপ্রতি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত 'বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) ২০১৩' বিলে বেশ কিছু পরিবর্তন এনে সুপারিশ চুড়ানত্ম করেছে সংসদীয় কমিটি৷ বিভিন্ন নারী সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ সিদ্ধানত্মে হতাশা প্রকাশ করেছেন৷ মহাজোট সরকারের মেয়াদকালে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস হবে এমনই প্রত্যাশা ছিলো সকলের৷ শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা ইতিপূর্বে মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ চার থেকে ছয় মাস করার সুপারিশ করেছিলো৷ কিন্তু শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ে আইনটির সংশোধনী প্রসত্মাবে এটি গুরুত্ব পায়নি৷ বাংলাদেশ তৈরি পোশাক মালিক সমিতি (বিজিএমই) এ ছুটি বাড়ানোর পক্ষে ছিল না৷ উপরন্তু তারা বলেছেন, মাতৃত্ব কল্যাণ সুবিধা ১৬ (৮ ও ৮) সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ২৪ সপ্তাহ করা হলে জন্মনিয়ন্ত্রন না হয়ে তা জন্মহার বৃদ্ধিকে উত্‍সাহিত করবে৷ এ ছাড়া এ সুবিধা পাওয়ার পর কর্মীদের চাকরিতে ফিরে না আসার প্রবণতাও বাড়বে৷ এদিকে বিভিন্ন নারী সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ সিদ্ধানত্মে হতাশা প্রকাশ করে বিরুপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন৷ তারা বলেছেন, বিষয়টি নারী শ্রমিক ও আগামী প্রজন্ম উভয়ের ওপরেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে৷ এ সম্পর্কে কর্মজীবি নারীর সভাপতি শিরীন আখতার বলেন, আমরা এ আইন সংশোধনের জন্য সুপারিশ করেছিলাম৷ আশা করেছিলাম তারা এ বিষয়টি মানবেন৷ আমরা বলেছি, সাধারণ নারীর জীবন ও শ্রমিক নারীর জীবন একি৷ মালিকদের বুঝতে হবে একটি শিশুকে পৃথিবীতে আনতে সব নারীকে একই ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়৷ নারীর সব প্রচেষ্টাই সমাজের জন্য, তাই নারীকে তার প্রাপ্য সুবিধাটুকু দিতে হবে৷ ২০০৬ সালে নারী শ্রমিকদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ চার মাস করা হয়৷ এ পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা আইনটির সংশোধনী প্রক্রিয়ায় মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানোর সুপারিশ করেছিলো৷ এ সম্পর্কে মহিলা পরিষদের গণমাধ্যম সম্পাদক কাজী সুফিয়া আখতার বলেন, ছয় মাস ছুটি না দেয়ার সিদ্ধানত্ম শ্রমিক মা ও শিশু দুজনের জীবনেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে৷ মা শিশুটিকে কোথায় রেখে কর্মক্ষেত্রে আসবে? শ্রমিক মায়ের সন্তানদের জন্য অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই নেই ডে-কেয়ার সেন্টার৷ তাছাড়া এসব মায়েদের ডে-কেয়ার সেন্টারে সনত্মান রাখার সামর্থ্যও নেই৷ এ সিদ্ধানত্ম মায়ের কর্মক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে৷ মা সনত্মানের চিনত্মায় কাজে মন দিতে পারবে না৷ মহিলা আইনজীবি সমিতির বিভাগীয় সম্পাদক কোহিনূর বেগম বলেন, এ বিষয়টি মা ও শিশুর জন্য ক্ষতিকর হলো৷ মাকে শিশুর জন্য এখন কৌটোর দুধের ওপর আরো নির্ভরশীল হতে হবে৷ ফলে শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য তা যেমন ক্ষতিকর হবে তেমনি মাও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হবে৷ এ সিদ্ধানত্মের পেছনে গার্মেন্টস মালিকদের অনীহাই কাজ করেছে৷ এ সিদ্ধানত্মের ফলে সাধারণ নারী ও শ্রমিক নারীদের মধ্যে একটা পার্থক্য সুস্পষ্ট হলো৷ অনুসন্ধানে জানা যায়, এখনও গার্মেন্টেসের নারী শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ অনুকূল নয়৷ বিদেশি ক্রেতাদের চাপে কিছু পোশাক কারখানার মালিক পরিবেশ উন্নয়নে উদ্যোগী হলেও বেশিরভাগ কারখানার পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে৷ শ্রমিকরাও রয়েছে শোষণের মুখে৷ বেশির ভাগ গার্মেন্টেসে প্রসূতিদের চার মাসও ছুটি দিতে চায় না৷ ছুটি চাইলে বলে 'চাকরি ছেড়ে দাও'৷ চাকরি যাওয়ার ভয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকরা সনত্মান হওয়ার বিষয়টি গোপন করে কাজ করে যায়৷ এতে তারা নানা ধরনের শারিরীক জটিলতার মধ্যে পড়ে৷ সূত্র মতে, গার্মেন্টস নারী শ্রমিকদের মধ্যে শতকরা ৫৪ শতাংশ অবিবাহিত৷ ৪৮ শতাংশ সব সময়ে কোনো না কোনো রোগে ভোগে৷ গার্মেন্টস কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক নাগাড়ে ১৪/১৫ ঘন্টা কাজ করতে হয় বলে তারা চোখ, মাথা ও কোমর ব্যাথায় ভোগে৷ ভোগে কিডনি রোগে৷ কে কতোবার টয়লেটে যায় তার হিসাব রাখার জন্য রয়েছে কার্ড৷ মিতালী কাজ করেন গাজীপুরের পাকসিন গার্মেন্টেসে৷ তিনি জানান টয়লেটে একবারের বেশি গেলে বকা খেতে হয়৷ তাই তারা সারা দিন খুবাই অল্প পরিমান পানি পান করেন৷ তিনি জানান, প্রসবকালীন ছুটি চার মাস নির্ধারিত থাকলেও তা দেয়া হয় না৷ দেয়া হয় তিন মাস৷ সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের জেষ্ঠ্য রিসার্চ ফেলো ড. ফাহমিদা জানান, পুরুষদের তুলনায় গার্মেন্টস মেয়েরা বেশি অসুস্থ্য হয়৷ অসুস্থ্যদের ৪০ শতাংশ কোনো চিকিত্‍সা করান না। ৩ ডিসেম্বর'২০১৩