ঢাকা, বুধবার ২২, জুলাই ২০২৬ ২১:৪৭:৫৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ত্রাণ আনতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত : ১২:২৭ পিএম, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১২:৪২ পিএম, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪ বৃহস্পতিবার

images 1স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, রাজশাহী: দুই সপ্তাহ ধরে পানিবন্দী। ঘরে খাবার নেই। ক্ষুধার জ্বালায় দিনভর ছটফট করছিল শিশুটি। পাশের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে ত্রাণ এসেছে—এ খবরে পাড়ার আরও দুই-তিনজনের সঙ্গে বন্যার পানি ভেঙে ত্রাণ নিতে বাঁধে যায় মলি খাতুন (১০)। সন্ধা ঘনিয়ে এলেও ত্রাণ আসেনি। শেষে খালি হাতেই বাড়ি ফেরার পথে তীব্র স্রোতের সঙ্গে লড়াই করতে পারেনি। বাড়ির পথের রাস্তার এক পাশে গভীর পুকুর। পা ফসকে পুকুরে ডুবে যায় মলি। দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা পর গতকাল বুধবার বেলা আড়াইটায় রাজশাহী থেকে দমকল বাহিনীর ডুবুরিরা এসে কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর মলির মৃতদেহ উদ্ধার করেন। ত্রাণের খোঁজে বের হয়ে লাশ হয়ে ঘরে ফেরার এ ঘটনা বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা-ঘুঘুমারি গ্রামের। গত মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে ঘুঘুমারি বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে ত্রাণের খোঁজে গিয়ে লাশ হয়ে ফেরা মলি খাতুন ঘুঘুমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা দিনমজুর আবদুল কুদ্দুস শাহ। গতকাল বেলা তিনটার দিকে পানিবন্দী ঘুঘুমারি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, শোকে স্তব্ধ গোটা গ্রাম। লাশ উদ্ধারের পর আশপাশের লোকজন পানি ভেঙে ঘুঘুমারি ডাকবাংলো সড়কে ভিড় করেছে। বাবা আবদুল কুদ্দুস মলির নিথর শরীর বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘১৫ দিন ধরে পানিবন্দী। ছলপল লিয়া অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। অবুঝ মাইয়াটা খিদা সহ্য কোরবার পারেনি। ত্রাণ লিবার য্যায়া মাইয়াডা পানিতে ডুবে মরল।’ চারদিকে যমুনার থই থই পানি। তাই দুর্ভাগা শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর গ্রামে কবর দেওয়া যায়নি। ছয় কিলোমিটার দূরে ফুফুর বাড়ি কলারআইরে সন্ধ্যায় কবর দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ঘুঘুমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশীদ বলেন, বাবা-মা সহায়সম্বলহীন দিনমজুর হলেও মলি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেত। ০৪.০৯.২০১৪