ঢাকা, শনিবার ২৭, জুন ২০২৬ ১১:৫৭:০৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

জাতীয় কবির ১২৩তম জন্মবার্ষিকী আজ

অনলাইন ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৫৩ এএম, ২৫ মে ২০২২ বুধবার

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ বুধবার। দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে, সরকারী ও বেসরাকরী উদ্যোগে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ বছর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ হচ্ছে- ‘বিদ্রোহীর শতবর্ষ’।  দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। 

রাষ্ট্রপতি হামিদ তার বাণীতে বলেছেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালির জাতীয় জাগরণের তূর্যবাদক ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের রূপকার। সাম্য, মানবতা, প্রেম ও প্রকৃতির কবি, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অন্যতম পুরোধা। তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও সৃজনশীল কর্ম জাতির অন্তহীন অনুপ্রেরণার উৎস। নজরুল ছিলেন অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী কবি। তিনি শুধু নিজের ধর্ম, সমাজ-সম্প্রদায়, দেশ ও কালের গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকেননি, ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার জয়গান গেয়েছেন, নারীর অধিকারকে করেছেন সমুন্নত। তার সৃষ্টি সর্বজনের, সর্বকালের।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাভাষা ও সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান স্বাতন্ত্র্য মহিমায় সমুজ্জ্বল। মানবতা, সাম্য ও দ্রোহের কবি নজরুল। স্বল্পকালীন সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি রচনা করেছেন প্রেম, প্রকৃতি, বিদ্রোহ ও মানবতার অনবদ্য সব কবিতা, গান, প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস ও নাটক। কালজয়ী প্রতিভার অধিকারী কবি নজরুল তার লেখনীর মাধ্যমে আমাদের সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন।’

কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জৈষ্ঠ, ইংরেজি ১৮৯৯ সালের ২৫ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। ছোটবেলায় তিনি পিতৃহারা হন। এর পর বাধার দুর্লঙ্ঘ্য পর্বত পাড়ি দিতে হয় তাকে। তবে বাংলার সাহিত্যাকাশে দোর্দন্ড প্রতাপে আত্মপ্রকাশ করেন কবি নজরুল। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার সম্পর্কে যথার্থই বলেছেন- ‘কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু, আয় চলে আয়রে ধূমকেতু/আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু, দুর্দিনের এই দুর্গশিরে উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন।’

মধ্যবয়সে কবি নজরুল পিকস ডিজিজে আক্রান্ত হন। এর ফলে আমৃত্যু তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। এক সময় কথা বলার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন। ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে নজরুলকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। ১৯৭৬ সালে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ‘একুশে পদক’ দেওয়া হয়। ওই বছরই ২৯ আগস্ট প্রয়াত হন নজরুল।

কর্মসূচির আয়োজন : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। ‘বিদ্রোহীর শতবর্ষ’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় পর্যায়ের এ বছরের জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হবে নজরুল স্মৃতিবিজড়িত কুমিল্লায়। সেখানকার বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন প্রাঙ্গণে আজ বেলা ১১টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এ ছাড়া ঢাকাসহ জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল, মানিকগঞ্জের তেওতা, চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গা এবং চট্টগ্রামে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে।

এ ছাড়া নজরুল ইনস্টিটিউট বাংলা একাডেমির সহযোগিতায় জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণিকা ও পোস্টার মুদ্রণ করবে। নজরুল ইনস্টিটিউটসহ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাগুলো এ উপলক্ষে আয়োজন করবে বিশেষ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়া নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালকের তত্ত্বাবধানে ঢাকার রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।