ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৬, জুলাই ২০২৬ ৯:১৮:২১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০৭:২৬ পিএম, ৮ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৯:৪১ পিএম, ৯ মার্চ ২০১৮ শুক্রবার

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই মেয়েদের বসে থাকলে চলবে না। কাজ করতে হবে, লেখাপড়া শিখতে হবে এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে। কোনো সমাজে নারী পড়ে থাকলে সেই সমাজ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।


আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


নারীর অধিকার সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর দর্শন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নারীর অধিকার নারীর অধিকার নিয়ে যতই শ্লোগান দেই যতই বক্তব্য দেই অধিকারতো আর হেঁটে আসবে না।


তিনি বলেন, জাতির পিতা বলতেন- ‘একটা মেয়ে যদি নিজে অর্থ উপার্জন করতে পারে এবং তার হাতে যদি কিছু টাকা থাকে বা আঁচলে যদি কামাই করে ১০ টাকা বেঁধে নিয়ে আসতে পারেন তাহলে সমাজে-সংসারে এমনিতেই তার অবস্থান হবে। কেউ অবহেলা করতে পারবে না।’


মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএন রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর এবং ইউএন রিপ্রেজেন্টিটিভ ইন বাংলাদেশ মিয়া সেপো। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।


অনুষ্ঠানে নারীর উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী ৫ জন জয়িতার হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন। পদক প্রাপ্তরা হচ্ছেন- অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনে ঢাকা বিভাগের দৃষ্টি, শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করায় খুলনা বিভাগের মোসাম্মাৎ নাছিমা খাতুন, সফল জননী ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির হলা ক্রা প্রু মারমা, নির্যাতনের বিভীষিকা পেছনে ফেলে নতুনভাবে জীবন শুরু করায় ঢাকা বিভাগের ফিরোজা খাতুন এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় রাজশাহী বিভাগের আমেনা বেগম।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদা নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। মেয়েদের যে মেধা আছে সেটা আমাদের কাজে লাগাতে হবে এবং একটা সমাজকে যদি গড়তে হয় যে সমাজে প্রায় অর্ধেকই নারী সেই অর্ধেক বাদ রেখে একটা সমাজ উন্নত হতে পারে না।

 

তিনি বলেন, সমাজকে উন্নয়ন করতে হলে নারী পুরুষ সবাইকেই সমানভাবে সুযোগ করে দিতে হবে। নারীদের কর্মসংস্থান করতে হবে এবং তাদের শক্তি ও মেধা কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগে তার ব্যবস্থাও করতে হবে।

 

শেখ হাসিনা বলেন, সমাজে নারী পড়ে থাকলে সেই সমাজ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। সেজন্যই নারীদের অধিকার সুরক্ষিত করে তাঁদের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া, কর্মক্ষেত্রসহ সর্বক্ষেত্রেই তাদের বিচরণ যাতে নিশ্চিত হয় সেটাই আমাদের লক্ষ্য আর সে কাজটাই আমরা করে অনেক দূর এগিয়ে গেছি।

 

প্রধানমন্ত্রী এ সময় মেয়ের বিয়ের জন্য বাবা-মাকে তাড়াহুড়ো না করে তাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মত শিক্ষা প্রদানে মনোনিবেশ করার জন্যও তাদের প্রতি আহবান জানান।


তিনি বলেন, বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে একটা সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্তভাবে প্রয়োজন, যেটা সরকার করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারীদের বিয়ে দিয়ে দিলেই তাদের প্রতি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং দায়িত্ব আরো বাড়ে। কিন্তু মেয়েকে যদি লেখাপড়া শিখিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে তাহলে সেটাই আমার মনে হয় সমাজ ও পরিবারের জন্য সব থেকে ভালো হয় এবং একটি সুরক্ষার সৃষ্টি করতে পারে। আর বাবা-মা বৃদ্ধ হয়ে গেলে ছেলের বউ যত না দেখে তার চেয়ে মেয়েরা বেশি দেখে এটাও তাদের মনে রাখা উচিত।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেয়েরাইতো ছেলের বউ হয় সেটাওতো ঠিক। তাই বাবা-মা শ্বশুর-শাশুড়ি সকলের প্রতিই নারীদের সমানভাবে দায়িত্ব পালন করা উচিত।’


সরকার প্রধান বলেন, এয়ারফোর্সে মেয়েরা যুদ্ধ বিমান চালনা শুরু করে দিয়েছে, বিমানেতো মহিলা পাইলট আছেই, রেলেও নারী ড্রাইভার রয়েছে, গাড়ি চালক রয়েছে, অন্যান্য বাহিনী এবং বিজিবিতেও তারা রয়েছে, জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত আসন ছাড়াও ২২জন সরাসরি নির্বাচিত নারী সদস্য রয়েছেন এবং সংসদ নেতা, উপনেতা, বিরোধী দলীয় নেতা এবং স্পিকারও একজন নারী।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগে নারী বিচারপতি, প্রশাসনের শীর্ষ পদে ১০ জন নারী সচিব, পুলিশ বাহিনী, র‌্যাব, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী, প্রশাসনের শীর্ষ পদে ১০ জন নারী সচিব এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদেও নারীরা দায়িত্ব পালন করছেন।


তিনি বলেন, আমাদের মেয়েরা এএফসি অনূর্ধ্ব- ১৪ ফুটবলে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশীপের প্রথম আসরে ভারতের বিপক্ষে বিজয়ী হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল দল। জাতীয় নারী ক্রিকেট দল ২০২০ সালে অনুষ্ঠেয় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলবে। আমাদের নারীরা এভারেষ্ট শৃঙ্গও জয় করেছে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ‘জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা-২০১৩ গ্রহণ, মাতৃত্বকালীন ছুটি ৪ মাসের পরিবর্তে স্ব-বেতনে ৬ মাসে বর্ধিতকরণ এবং সন্তানের পরিচয়ের ক্ষেত্রে বাবার নামের পাশাপাশি সর্বত্রই মায়ের নাম বাধ্যতামূলক করাসহ সরকারের নারী উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।