ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৬, জুলাই ২০২৬ ৭:৪০:৪৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ডটার অব বাংলাদেশ-এর শেষ স্ট্যাটাস ‘খোদা হাফেজ’

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ১১:৪৩ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ১২:৫৪ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৮ বুধবার

ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ইউএস বাংলার প্রথম নারী পাইলট প্রিথুলা রশিদ নিজের জীবন দিয়ে রক্ষা করে গেছেন ১০টি জীবন। নেপাল ভিত্তিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে ও সামাজিক মাধ্যমে এই বীর নারীকে ‘ডটার অব বাংলাদেশ’ আখ্যা দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

ফেসবুকের শেষ স্ট্যাটাসে প্রিথুলা লিখেছিলেন, ‘খোদা হাফেজ’। ইথিওপিয়া বিমানবন্দরে গত ১৮ জানুয়ারি দেয়া ওই স্ট্যাটাসের পর তিনি আর কোনো স্ট্যাটাস লেখেননি।

ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবার বুলে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে বাংলাদেশে আসার সময় তিনি এ স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি আর কোনো স্ট্যাটাস দেননি। এরপর তিনি শুধু (গত ৩ ফেব্রুয়ারি) তিনি তার প্রিয় বিড়ালকে কোলে নিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। এরপর ফেসবুকে তিনি আর কোনো স্ট্যাটাস বা ছবি দেননি।

সোমবার বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের সহকারী পাইলট ছিলেন প্রিথুলা। শুধু তাই নয়, ইউএস বাংলার প্রথম নারী পাইলট ছিলেন তিনি। দুর্ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ‘সিকিম মেসেঞ্জার’ নামে একটি পেজে প্রিথুলার মহানুভবতার কথা তুলে ধরে বলা হয়, ‘আজ নেপালী নাগরিকদের বাঁচাতে গিয়ে বাংলাদেশী কন্যা তার নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। অন্যের জীবন বাঁচাতে গিয়ে কাঠমান্ডুতে আজ এই বাংলাদেশী তরুণী পাইলট মারা গেছেন। তার নাম মিস প্রিথুলা রশিদ। তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের (ফ্লাইট বিএস২১১) কো-পাইলট ছিলেন। যেটি আজ নেপালের কাঠামান্ডুতে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়েছে। যাই হোক, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ১০ নেপালী নাগরিককে রক্ষার চেষ্টা করে গেছেন। যাদের সবাই জীবিত আছেন।’

মৃত্যুর আগেও বাংলাদেশকে গর্বিত করে গেছেন এই বাঙালী কন্যা। ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনা-প্রিথুলা দুর্ঘটনা কবলিত বোমবার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ ৪০০ উড়োজাহাজটিতে ৩৭ পুরুষ ও ২৭ জন নারী ছাড়াও উড়োজাহাজটিতে ছিল শিশু। দুর্ঘটনায় নিজের কথা না ভেবে আগে সেই যাত্রীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন প্রিথুলা। দশজন নেপালী যাত্রীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে নিরাপদে সরিয়ে দিতে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করতে করতেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় প্রিথুলার।

তবে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রিথুলা রশিদের অন্যের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়নি। ওই দশ নেপালী যাত্রীর সবাই দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। তারা সবাই এখন বেঁচে আছে। সোমবার প্লেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে গিয়ে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময়েই দুর্ঘটনার শিকার হয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অবতরণের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে ১৯ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার ঢাকা থেকে যাওয়া ৭৮ আসনের উড়োজাহাজটিতে চার ক্রুসহ মোট ৭১ আরোহী ছিলেন। এতে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় নেপাল পুলিশ। এদের মধ্যে পাইলট, কো-পাইলট, কেবিন ক্রুসহ মোট ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।