জীবনের সংকট কাটেনি অাফসানার
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৮:৫১ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৩:২৩ পিএম, ২৭ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার
নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের নিহত পাইলট আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানমের জীবনের সংশয় এখনও কাটেনি। আফসানা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকে চিকিৎসকরা এ তথ্য় জানান। এ অবস্থায় কাউকে গুজব না ছড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন তারা।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আফসানার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি তার মৃত্যুর খবর দিয়ে কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে স্ক্রলও দেওয়া হয়। এ খবর পেয়ে তার আত্মীয়স্বজনের অনেকে হাসপাতালে আসতে থাকেন।
আফসানা এখন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। আবিদের দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। প্রথমে তাকে জানানো হয়েছিল, আবিদ আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। পরে তার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থেকে আফসানা ভেঙে পড়েন।
গত রোববার সকাল থেকে আফসানা মাথায় প্রচণ্ড যন্ত্রণা বোধ করছিলেন। প্রথমে তাকে উত্তরাতেই বাসার কাছে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে শেরেবাংলা নগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর শোক সামলে উঠতে পারেননি আফসানা। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে তার মাথায় অস্ত্রোপচার হয়েছে।
বর্তমানে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক কাজী দীন মোহাম্মদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে আফসানার চিকিৎসা চলছে।
এদিকে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় আফসানার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সভা হয়। পরে আফসানার সবশেষ অবস্থা গণমাধ্যমকে জানান হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক বদরুল আলম।
তিনি বলেন, আফসানা গত পরশু এ হাসপাতালে ভর্তি হলে প্রথমে তার সিটিস্ক্যান ও এনজিওগ্রাম করা হয়। এরপর তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। তিনি আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
অধ্যাপক বদরুল আলম বলেন, তার দুইবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক) হয়েছিল। প্রথমবার ছিল মৃদু, পরেরটি মারাত্মক। তার মাথার খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছে। এভাবেই এ ধরনের রোগের চিকিৎসা করা হয়। মস্তিষ্কের প্রেশার কমলে খুলি অাবার লাগান হবে।
তিনি বলেন, আফসানার মস্তিষ্কের কোনো উন্নতি হয়নি। তবে কিডনি, হৃদ্যন্ত্রসহ অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্বাভাবিকভাবে কাজ করেছে। রক্তচাপ ও তাপমাত্রা স্বাভাবিক। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুসারে আজ সকাল থেকে কিছু পুরোনো ওষুধ বাদ দিয়ে নতুন ওষুধ যোগ করে তার চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতেতে তাকে বিদেশে নেয়ার সুযোগ নেই।
আফসানার স্বজনরা জানান, আবিদ-আফসানার একমাত্র ছেলে তানজিদ সুলতান এখন উত্তরায় তার নানার বাসায় আছে। নানা আবুল কাশেম বয়োবৃদ্ধ। নানি মারা গেছেন। আফসানার ছোট বোন আফরিনা খানম যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশ ফিরেছেন। একমাত্র ছোট ভাই আফজাল হোসেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী। তিনি গতকালই দেশে ফিরেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আফসানার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গতকাল আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজার পর আবিদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আবিদ বিমানবাহিনীতে ছিলেন। তাই বনানীর সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
