ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৬, জুলাই ২০২৬ ৪:৪৪:০১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

পানিসম্পদ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০৩:৪৪ পিএম, ২৭ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ১১:১৭ পিএম, ২৯ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার

নিজস্ব পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, নদীর নাব্যতা বাড়ানোর জন্য যেমন ড্রেজিং করতে হবে তেমনি বর্ষার পানি ধরে রাখারও বন্দোবস্তো রাখতে হবে। কারো ওপর নির্ভরশীল নয়, নিজেদের ব্যবস্থাটা নিজেদেরই করতে হবে। বর্ষকালে যে বিশাল জলরাশি আসে সেটা আমরা কিভাবে ধরে রাখতে পারি সেই পরিকল্পনা করে জরুরী।

আজ মঙ্গলবার বিশ্ব পানি দিবস-২০১৮ উপলক্ষে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনো আমাদের দেশে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, নদী ড্রেজিংয়ে নয়, বরং নদীর পাড় বাধাই এবং রাস্তা নির্মাণ বা সেখানকার লোকজনের জন্য পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রকল্পে। যেটি মূলত তাদের কাজ নয়।

 

তিনি বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাজ নদী ড্রেজিং এবং পলি ব্যবস্থাপনা। রাস্তা সরকারের অন্য মন্ত্রণালয় করে দেবে এবং সেভাবেই প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পনা প্রণয়ণ এবং প্রকল্প গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেন।

 

শে হাসিনা বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্বটা কি। নদীকে কিভাবে রক্ষা করা যায়, নদীর নাব্যতা বাড়ানো যায়, নদীর ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো যায় এবং এই নদী আমাদের জন্য অভিশাপ নয়, আশির্বাদ হিসেবে যেনো নিজের অস্তিত্ব ঠিক রাখতে পারে সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া। নদী ভাঙ্গন রোধ করা। এটাও কিন্তু সব থেকে বড় কাজ।



আন্তর্জাতিক নদীর পানি বন্টন নিয়ে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সমস্যা থাকার প্রসঙ্গ স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭শ’ নদী এবং ভারতের সঙ্গে অভিন্ন ৫৪টি নদী রয়েছে, এই নদীগুলো হিমালয় থেকে এসেছে ভারত হয়ে। এই নদীগুলো নিয়ে আমাদের ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যেটার মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা।


’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ভারতের কাছ থেকে এই গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক পানি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যদিও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে পানির হিস্যা নিয়ে এখনো ঝামেলা চলছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।


তিস্তা ব্যারেজ করলেও তার ভবিষ্যত পরিবেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে চিন্তা করা হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ব্যারেজটা করার আগেই চিন্তা করা উচিত ছিল যে, আমরা ভাটির দেশে বসবাস করি। এখন সেই তিস্তার পানি নিয়ে আমাদের সমস্যা চলছে।


ভারতের সঙ্গে নদী সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সরকার ইতোমধ্যেই অনেক কাজ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) গঠন করা হয়েছে অন্যান্য নদী নিয়েও আলোচনা চলছে এবং তিস্তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

সূত্র : বাসস