স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি, অফিস সহকারী গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:৩৭ পিএম, ২৭ জুলাই ২০২২ বুধবার
নুর নবী
ফেনীর সোনাগাজীতে এক স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওই স্কুলের অফিস সহকারী (কেরানি) নুর নবীকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেলে মতিগঞ্জ আর এম হাট কে উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুল পরিচালনা কমিটির সভার পর অফিস সহকারীকে পুলিশে হাতে তুলে দেয়। রাতে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নুর নবীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ খালেদ হোসেন দাইয়্যান।
গ্রেপ্তার নুর নবী সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের চরডুব্বা গ্রামের বকু হাজী বাড়ির ওয়াজিউল্লাহ ছেলে।
মতিগঞ্জ আর এম হাট কে উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বরাত দিয়ে মতিগঞ্জের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউজ্জমান বাবু বলেন, গত ২৪ জুলাই সকাল সাতটায় কয়েকজন ছাত্রী বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে যান। সাড়ে আটটার দিকে প্রাইভেট ছুটির পর রেজিস্ট্রেশন কার্ডে ছবি ও ভুল সংশোধনের কথা বলে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অফিস সহকারি নুর নবী তার কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফাইল বের করে ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন অফিস সহকারি নুর নবী। পরদিন ২৫ জুলাই ভয়ে ওই ছাত্রী বিদ্যালয় ও প্রাইভেট পড়তে যাননি। গতকাল ২৬ জুলাই মঙ্গলবারও বিদ্যালয়ে ও প্রাইভেট পড়তে না যেতে চাইলে ওই ছাত্রীর মা তাকে বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তার মাকে বিষয়টি খুলে বলেন। তাৎক্ষণিক ওই ছাত্রীকে নিয়ে তার স্বজনরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অপরাপর শিক্ষকদের জানালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
মতিগঞ্জ আর এম হাট কে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর ছাত্রীর মা আমার কাছে (প্রধান শিক্ষক) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর আমি তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং কমিটিকে বিষয়টি জানাই।
মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক ডাকেন ইউএনও। বৈঠকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিক চৌধুরী, মতিগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যান রবিউজ্জমান বাবু, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল আমিনসহ স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ভুক্তভোগীর বক্তব্য এবং সাক্ষ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অফিস সহকারীকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
