ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৫, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৬:২৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

‘সেই শিক্ষিকার স্বামী গভীর রাতে বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:৫৩ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২২ রবিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নাটোরে সেই কলেজছাত্রকে বিয়ের প্রায় ৮ মাস ২ দিনের মাথায় শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনা নিয়ে পুলিশ বলছে, এটি আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে তাদের মনে হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামী মামুন হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

রোববার (১৪ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে শহরের বলারিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ৩১ জুলাই তাদের বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় বিয়ের খবরটি ভাইরাল হয়। এতে সারা বাংলাদেশে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

নিহত শিক্ষিকা মোছা. খাইরুন নাহার গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় পৌর এলাকার মো. খয়ের উদ্দিনের মেয়ে এবং উপজেলার খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। আটককৃত মামুন (২২) নাটোর এনএস সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাত ৩টার দিকে শিক্ষিকার স্বামী মামুন এলাকাবাসীকে ডেকে বলেন, ‘তার স্ত্রী খায়রুন নাহার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে’। এলাকাবাসী ছুটে গিয়ে তার ঘরের মেঝেতে মরদেহ দেখতে পান। এ বিষয়ে সন্দেহ হলে এলাকাবাসী মামুনকে আটকে রেখে পুলিশে সংবাদ দেয়। এরই মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। পরে মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর মামুন হোসাইনের বরাত দিয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, নাটোর সদরের বালারিপাড়ায় তাদের ভাড়া করা বাড়িতে তার মরদেহ পাওয়া গেছে। রাতে স্বামী স্ত্রী দুজনে এক সঙ্গেই ছিলেন। গভীর রাত ২টার দিকে ছেলেটি বাড়ির বাইরে যায়। দারওয়ানও সেটা জানিয়েছে। এক ঘণ্টা পর ফিরে এসে সে দেখে যে ঘরের দরজা খোলা ও খায়রুন নাহার গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছেন। সেসময় হাতের কাছে ধারালো কিছু না পেয়ে ছেলেটি লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে ওড়না পুড়িয়ে তাকে নিচে নামিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মামুন হোসাইন কেন গভীর রাতে ঘরের বাইরে গিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে মৃত খায়রুন নাহারের গলায় দাগ রয়েছে তবে শরীরে অন্য কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।

উল্লেখ্য, গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোছা. খাইরুন নাহার। তার রাজশাহীর বাঘায় প্রথম বিয়ে হয়েছিল। পারিবারিক কলহে সংসার বেশি দিন টেকেনি তার। তবে ওই ঘরে একটি সন্তান রয়েছে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ২০২১ সালের ২৪ জুন তাদের পরিচয় হয় মামুন হোসেনের সঙ্গে। এরপর থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বরে বিবাহবন্ধনে আবন্ধ হন তারা।