আজ বিশ্ব অর্টিজম সচেতনতা দিবস
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ১১:২২ এএম, ২ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০২:৪৬ পিএম, ২ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার
আজ ২রা এপ্রিল সোমবার ১১তম বিশ্ব অর্টিজম সচেতনতা দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও আজ বিশ্ব অর্টিজম সচেতনতা দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ’নারী ও বালিকাদের ক্ষমতায়ন, হোক না তারা অর্টিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন।’
অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে ২ এপ্রিলকে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ হিসেবে পালনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকে প্রতি বছর দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অাজ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিশ্ব অর্টিজম সচেতনতা দিবসের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।
অটিস্টিক হিসেবে রঙ নির্ধারণ করা হয়েছে নীল। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত আগামী তিন দিন বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয়েল মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নীল বাতি প্রজ্জ্বলন করা করা হবে। এছাড়া সমাজসেবা অধিদফতর এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন ১৫দিন নীল বাতি প্রজ্জ্বলন করবে।
বিশ্ব অর্টিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষ্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। বানীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, অর্টিস্টিক শিশু কিশোরদের সম্ভাবনাগুলোকে চিহ্নিত করে সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা, স্নেহ, ভালবাসা দিয়ে যদি গড়ে তোলা হয় তাহলে তারা সমাজে ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝা না হয়ে অপার সম্বাবনা বয়ে আনবে দেশের জন্য।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পাশাপাশি দেশী-বিদেশী সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিবন্ধী ও অর্টিস্টিক জনগোষ্টীর কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিশ্বের সকল অর্টিস্টিক, ব্যাক্তি, শিশু, কিশোর, তাদের পরিবার, পরিচর্যাকারীদেরও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ তার বানীতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিত্তবান ও সচেতন ব্যাক্তিবর্গকে অর্টিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন নারী ও বালিকাদের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন। তিনি দেশের সকল অর্টিস্টিক ব্যক্তি, তাদের পরিবার এবং অর্টিজম নিয়ে কর্মরত ব্যক্তি ও সংগঠনসমূহকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
বর্তমানে বাংলাদেশে সনাক্তকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৫৪৩ জন। এর মধ্যে অর্টিজম ৪৪ হাজার ৬৭৫, শারীরিক প্রতিবন্ধী ৬ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৩, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অসুস্থতা জনিত প্রতিবন্ধী ৫২ হাজার ৮৪৬, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৫৪, বাক প্রতিবন্ধী ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৯, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ১ লাখ ২২ হাজার ৩০৮, শ্রম প্রতিবন্ধী ৪৫ হাজার ৬৪৬, শ্রবণ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ৬ হাজার ৫১৫৫, সেরি পালসি ৬৯ হাজার ৯৩৪, বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী ১৭ হাজার ৯৭২, ডাউন সিনড্রোম ৩ হাজার ৫৫ এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ১২ হাজার ৯১১।
সাধারণত অর্টিস্টিক শিশু বা ব্যাক্তির কথাবার্তা বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈকল্য ও অসঙ্গতি দেখা যায়। দেরিতে কথা বলা, জবান বা বাক প্রভৃতিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। খেলাধুলায় অনীহা কিংবা নিজেকে গুটিয়ে রাখার চেষ্টা থাকে। আচরণিক ক্ষেত্রেও এদের মধ্যে অঙ্গে যেমন হাত, আঙুল, মাথা প্রভৃতির অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। এক অর্থে অর্টিজম একটি জটিল বিকাশজনিত বৈকলয় যার ফলে ব্যক্তির সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, ভাষা, আবেগিয় পেশীর সঞ্চালনে চরম সমস্যার সৃষ্টি হয়।
অটিজম শিশুদের বিকাশগত একটি সমস্যা। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুরা সাধারণত অপরের সাথে ঠিকমতো যোগাযোগ করতে পারে না, তারা অতিরিক্ত জেদী হয়ে থাকে এবং নিজেকে বিচ্ছিন্ন ও গুটিয়ে রাখার মানসিকতাসম্পন্ন হয়ে থাকে। অটিজমের সুনির্দিষ্ট কোন কারণ নেই। তবে, গবেষকরা মনে করেন, জেনেটিক, নন-জেনেটিক ও পরিবেশগত প্রভাব সমন্বিতভাবে অটিজমের জন্য দায়ী। শিশুর বিকাশে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি সৃষ্টি হয়। এ পর্যন্ত পরিচর্যাই এর একমাত্র বিকল্প।
বাংলাদেশে অর্টিজমের প্রসঙ্গ এলে যার কথা না বলরেই নয় তিনি হলেন বাংলাদেশ অর্টিজম বিষয়ক জাতীয় কমিটির চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তার নিরলস প্রচেষ্টায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্টিসম বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। শারীরীক ও মানসিক দিক দিয়ে সমস্যাগ্রস্থ শিশুদের কল্যাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
সায়মা ওয়াজেদের পরামর্শে সরকার অর্টিস্টিক শিশু ও ব্যাক্তিদের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। অর্টিস্টিক শিশু সনাক্তকরণ, সেবাপ্রদান এবং তাদের বাবা-মাকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ইনিষ্টটিউট অভ পেডিয়াট্রিক নিউরোজিঅর্ডার এন্ড অর্টিজম (আইপিএনএ) স্থাপন করা হয়েছে। দেশের ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্যকেন্দ্রের মাধ্যমে অর্টিজম বৈশিষ্ট্য সনক্তকরণ,কাউন্সিলিং ও থেরাপি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ২০০৭ সাল থেকে এ বিষয়ে দেশে কাজ শুরু করেন। তার উদ্যোগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ’অর্টিজম আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং আর্থ সামাজিক সহায়তা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রস্তাব গৃহীত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাকে ’এক্সিলেন্স ইন পাবলিক হেলথ অ্যাওয়ার্ড ’ এ ভূষিত করে।
সম্প্রতি সায়মা ওয়াজেদ ইউনেস্কো-আমির জাবের-আল-আহমদ আল-সাবাহ পুরষ্কার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ডের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। অর্টিজম শিশুর বেদনা ওই শিশু ও তার পিতামাতা ছাড়া অন্য কারো পক্ষ্যে অনুভব করা সম্ভব নয়। সন্তানের এ ধরনের সমস্যা নিয়ে পিতা-মাতা দিনরাত চিন্তিত থাকেন।
সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের মত সকলকে ধর্ম, বর্ণ সব ভেদাভেদ ভুলে অর্টিজম শিশুর জীবনযাত্রার সার্বিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠে তাদের বিকশিত জীবনের দিকে এগিযে নেওয়ার প্রত্যয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সহযোগিতা, সহমর্মিতার, ভালবাসার হাত দিয়ে তাদের আগলে রাখতে হবে।
