শিনজিয়ানে উইঘুর মুসলিমদের নির্যাতন করছে চীন: জাতিসংঘ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৫৭ পিএম, ১ সেপ্টেম্বর ২০২২ বৃহস্পতিবার
ফাইল ছবি
শিনজিয়ান প্রদেশে চীন উইঘুর মুসলমানদের প্রতি "গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন" করেছে বলে মনে করছে জাতিসংঘ। বুধবার এই বিষয়ে এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। যদিও চীন জাতিসংঘকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করার আহ্বান জানিয়েছিল। বেইজিং এটিকে পশ্চিমা শক্তির সাজানো একটি "প্রহসন" বলে অভিহিত করেছে।
বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।
বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে উইঘুর মুসলিম এবং অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে, চীন যা বরাবই অস্বীকার করে আসছে।
প্রতিবেদনে তদন্তকারীরা বলেছেন যে তারা শিনজিয়ান প্রদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের "গ্রহণযোগ্য প্রমাণ" খুঁজে পেয়েছেন, যা সম্ভবত "মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ"। তারা সংখ্যালঘুদের অধিকার দমন করার জন্য একটি অস্পষ্ট জাতীয় নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করা এবং "বিধিবহির্ভূতভাবে আটকে রাখার ব্যবস্থা" প্রতিষ্ঠার জন্য চীনকে অভিযুক্ত করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় থেকে এই প্রতিবেদন তৈরি করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক বন্দীদের সঙ্গে অপরাধমূলক আচরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে "যৌন ও লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা" রয়েছে। কেউ কেউ জোরপূর্বক "পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ নীতির বৈষম্যমূলক প্রয়োগের" শিকার হয়েছেন।
জাতিসংঘ অবশ্য বলেছে যে চীনের সরকার কত লোককে আটকে রেখেছে তা নিশ্চিত করা যায়নি। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো অনুমান করে যে উত্তর-পূর্ব চীনের শিনজিয়ান অঞ্চলের শিবিরে দশ লক্ষের বেশি লোককে আটক রাখা হয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, এতে অমুসলিমরাও থাকতে পারে। শিনজিয়ানে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ উইঘুর মুসলমান বাস করে। এর আগে বেশ কয়েকটি দেশ শিনজিয়ানে চীনের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা বলে বর্ণনা করেছিল।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে চার বছর দায়িত্বে থাকার পর তার মেয়াদের শেষ দিনে মিশেল ব্যাচেলেটের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। উইঘুরদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তার পুরো মেয়াদকালে প্রাধান্য পেয়েছে।
এক বছরেরও বেশি সময় আগে তার কার্যালয় থেকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল যে শিনজিয়ানে গণহত্যার অভিযোগের তদন্ত চলছে। কিন্তু প্রতিবেদনটির প্রকাশনা বেশ কয়েকবার বিলম্বিত হয়। যার ফলে কিছু পশ্চিমা মানবাধিকার গোষ্ঠী অভিযোগ করে যে প্রতিবেদন থেকে কিছু গুরুতর অভিযোগ চেপে যাওয়ার জন্য বেইজিং অনুরোধ করছে।
এমনকি প্রতিবেদনটি প্রকাশের শেষ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেও ব্যাচেলেটকে এটি প্রকাশ না করার জন্য চাপ দিয়েছে চীন। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বীকার করেন যে তিনি এই প্রতিবেদনটি 'প্রকাশ করা বা না করার জন্য প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ছিলেন'।
কিন্তু তিনি প্রতিবেদনটি দেরিতে প্রকাশ করা সম্পর্কে যুক্তি দিয়ে বলেন, প্রতিবেদনটি নিয়ে বেইজিংয়ের সাথে আলাপ করার অর্থ এই নয় যে তিনি এর বিষয়বস্তু "না দেখার ভান" করেছেন।
প্রতিবেদনে জাতিসংঘ চীনা সরকারকে সুপারিশ করেছে, যেন অবিলম্বে ‘স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত সকল মানুষকে মুক্তি দেওয়ার’ পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
