উদ্যোগী নারী মোকসেদা বেগম
প্রকাশিত : ০৫:১৫ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সোমবার | আপডেট: ০৫:১৫ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সোমবার
মাহাদী হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : মোকসেদা বেগম, ঠাকুরগাঁয়ের এক উদ্যোগী নারী। ২০০১ সালে তার উদ্যোগে মাত্র ১০ জন নারী নিয়ে শুরু করা অনন্যা হস্তশিল্পে এখন কাজ করে প্রায় ৩০০-৩৫০ নারী। ঠাকুরগাঁয়ে এখন তিনি অনেক নারীর কাছেই আদর্শ। সম্প্রতি তিনি উইমেন গ্রাসরুটস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ থেকে পেলেন সেরা তৃণমূল নারী উদ্যোক্তা ২০১৩ এর সম্মান। উইমেননিউজ’এর সাথে এক বিশেষ সাক্ষাতকারে উঠে আসে তার উদ্যোগের পেছনের গল্প এবং অনুপ্রেরণা।
মোকসেদা বেগমকে তার কুটির শিল্পের এ পর্যায়ে আসার পেছনের গল্প এবং কারন জানতে চাইলে তিনি জানান, ২০০১ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর মূলত জীবিকার তাগিদেই তার এ ব্যবসা শুরু করতে হয়েছিল। এমন উদ্যোগকে প্রথমে কেউই স্বাগত জানায়নি। তবে যুব উন্নয়ন সংস্থা এবং বিসিক এর সহযোগিতায় তার এ অনন্যা হস্তশিল্প আজকের এ অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। মাত্র ১০ জন নারীকে নিয়ে শুরু করা এ ব্যবসায় এখন কাজ করে প্রায় ৩০০-৩৫০ জন নারী। তার স্বপ্ন একদিন তার এখানে ৫০০-৬০০ নারী কাজ করবে।
যে কোন ব্যবসা শুরুর সবচেয়ে বড় বাঁধা থাকে অর্থ। মোকসেদা বেগমের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ঘটে নি। তিনি বলেন, শুধু তার জন্যই নয়। তার সাথে যারা কাজ শুরু করেছিল তাদেরও অর্থের সমস্যা ছিল। আর এছাড়া পরিবারের অসহযোগিতা তো আছেই। তবে সব ছাপিয়ে নিজের প্রতি আত্ববিশ্বাসই তাকে এ অবস্থায় এনেছে বলে তিনি মনে করেন।
ভবিষ্যতে সকল দুঃস্থ নারীরা যেন তার মত হতে পারে, সকল বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করতে পারে এজন্য সর্বদাই তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করতে চান তিনি।
বাংলাদেশে প্রান্তিক নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার পেছনে প্রধান বাঁধাগুলোর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নারীদের প্রধান বাঁধা অর্থ। টাকা বা পুঁজি ছাড়া তো আসলে কিছুই সম্ভব নয়। এছাড়াও পরিবারের বাঁধা তো আছেই। তবে প্রান্তিক নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সরকারের বলিষ্ঠ ভূমিকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, সরকারের উচিত গ্রামে গ্রামে তার মত মহিলা খুঁজে বের করা এবং সহায়তা করা। শুধু অর্থ দিয়ে সহায়তা করলেই হবে না। তাদের পণ্য যেন বাজারজাত করা যায় সে ব্যাপারটিও খেয়াল রাখতে হবে। এখানে গণমাধ্যমের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, নারীদের উন্নয়নে গণমাধ্যমেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। যদি কোন নারীর বাসায় গণমাধ্যম কর্মী যায় তবে সে নারীর পরিবার অনেক উৎসাহ পায় এবং সেই নারীকে সব রকম সাহায্য করে।
মোকসেদা বেগমের সাথে বর্তমানে কাজ করছেন প্রায় ৩০০ নারী। তারাও এখন পরিবারের সবরকম সহায়তা পাচ্ছেন। যদিও প্রথমে তারা কোনরকম উৎসাহ পাননি। এখন তাদের অবস্থা বেশ ভালো।
এজিডব্লিউইবি’র পুরস্কার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এজিডব্লিউইবি’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাদের সম্মাননার ফলেই এখন অনেক মানুষ তাঁকে চেনেন এবং অনেক নারী তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।
সবশেষে মোকসেদা বেগম নতুন নারী উদ্যোক্তাদের শত বাঁধাতেও মনোবল ধরে রাখার এবং আত্ববিশ্বাস না হারানোর পরামর্শ দেন। এবং তিনি এও বলেন তারা যোগাযোগ করলে তিনি সাধ্যমত তাদের সবরকম সহায়তা করতে চান।
০৮.০৯.২০১৪ 