প্রথম ভাষণে যা বললেন লিজ ট্রাস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০২:০৭ পিএম, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ বুধবার
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন লিজ ট্রাস। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ভাষণে দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লিজ ট্রাস। সেই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর মোকাবিলায় একটি সাহসী পরিকল্পনা তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার স্কটল্যান্ডের বালমোরাল ক্যাসেলে যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে দেখা করেন ট্রাস। এ সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ট্রাসকে নতুন সরকার গঠনের অনুমোদন দেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে রানির ৭০ বছরের রাজত্বকালে ১৬তম প্রধানমন্ত্রী হন কনজারভেটিভ পার্টির এই নেতা।
পরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দাঁড়িয়ে ট্রাস বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে ব্রিটেন মারাত্মক এক বৈশ্বিক বাধার মুখোমুখী হয়েছে। কিন্তু এই ঝড় থেকে ব্রিটেন যে বেরিয়ে আসতে পারবে তাতে তিনি নিশ্চিত।
দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ ওইসব মানুষেরাই গড়েছেন যারা নিজেদের কাজ করেন। আমি নিশ্চিত, একসঙ্গে কাজ করে আমরা এ ঝড় থেকে বেরিয়ে আসতে পারব, আমরা আমাদের অর্থনীতি পুনঃনির্মাণ করতে পারব এবং আধুনিক দক্ষ ব্রিটেন হয়ে উঠতে পারব। আমি জানি আমরা পারব।’
বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে তার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে দোষারোপ করেছেন ট্রাস। এ সংকট মোকাবিলা করতে নিজে সক্রিয়ভাবে কাজ করার পরিকল্পনা করার কথা জানান তিনি।
বিবিসি জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ট্রাস অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিনটি কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। সেগুলো হলো- অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফেরানো, জ্বালানি সংকট মোকাবেলা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নতি।
টোরি নেতৃত্ব পাওয়ার প্রতিযোগিতার সময়ও বারবার কর কর্তন ও সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে ‘বলিষ্ঠ পরিকল্পনা’ করেছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাস। যদিও তিনি ঠিক কী পরিকল্পনা করেছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
ভাষণে নিজের পূর্বসুরিও প্রশংসা করে ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বরিস জনসন ব্রেক্সিট সম্পন্ন করেছেন। তিনি কোভিড-১৯ টিকার ব্যবস্থা করেছেন এবং রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। ইতিহাস তাকে একজন অত্যন্ত ফলপ্রসূ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনে রাখবে।’
দেশের এই গুরুতর সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছেন বলেও প্রথম ভাষণে জানিয়েছেন ট্রাস।
