পোলিও সংক্রমণ: নিউ ইয়র্কে জরুরি অবস্থা জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৮:১২ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ শনিবার
ছবি: সংগৃহীত
রাজ্যজুড়ে পোলিও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে, এমন তথ্যপ্রমাণ পাওয়া পর নিউ ইয়র্কের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার গভর্নর ক্যাথি হোকল নিউ ইয়র্কে জরুরি অবস্থা জারি করেন। এ নিয়ে চলতি বছর তৃতীয়বার রাজ্যটিতে জরুরি অবস্থা জারি হল। আগের দুইবার কোভিড মহামারী ও মাঙ্কিপক্সের জন্য একই বিধিবিধান আরোপ করেছিল অঙ্গরাজ্যটির কর্তৃপক্ষ।
শনিবার এক প্রিতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, নিউ ইয়র্ক শহর ও আশপাশের চারটি এলাকার পয়োঃবর্জ্য পানিতে পোলিওভাইরাস পাওয়া গেছে; এই ভাইরাস মানুষকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে দিতে পারে।
এখন পর্যন্ত মাত্র একজনের ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। যা প্রায় এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এটিই প্রথম পোলিওতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা।
১৯৫৫ সালে টিকাদান শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে পোলিও প্রায় নির্মূল হয়েছিল এবং ১৯৭৯ সালে নিজেদেরকে পোলিওমুক্ত বলে ঘোষণা দেয় দেশটি।
কিন্তু রাজ্যটির কর্মকর্তাদের মতে, নিউ ইয়র্কের অনেক অংশে এই ভাইরাস মোকাবেলায় সক্ষম টিকাদানের হার খুবই কম। শুক্রবার যে জরুরি অবস্থা জারি করা লক্ষ্য হচ্ছে টিকা দেয়ার হার বাড়ানো।
পোলিওর কোনো প্রতিষেধক নেই, কিন্তু টিকার মাধ্যমে একে প্রতিরোধ করা যায়। ভাইরাসটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের প্রভাবিত করে। সাধারণত মাংসপেশীকে দুর্বল এবং অক্ষম করে দেয় এ ভাইরাস। গুরুতর কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি স্থায়ী প্রতিবন্ধিতা ও মৃত্যুও ঘটাটে পারে।
নিউ ইয়র্ক রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে বর্তমানে রাজ্যজুড়ে পোলিওর টিকাদান হারকে গড়ে ৭৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশের উপরে নিয়ে যাওয়া।
নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য কমিশনার ড. মেরি বাসেট এক বিবৃতিতে বলেছেন, পোলিওর ক্ষেত্রে আমরা নয়ছয় করতে পারি না। যদি আপনি কিংবা আপনার সন্তান টিকা না নিয়ে থাকেন বা টিকার বিষয়ে না জেনে থাকেন, তাহলে পক্ষাঘাতজনিত রোগের খপ্পরে পড়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্যারালাইটিক পোলিওর এক রোগী শনাক্ত হওয়ার মানে হচ্ছে হয়তো আরও কয়েকশ লোক আক্রান্ত হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে শিশু বয়সের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে পোলিও টিকা দেওয়া হয়। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) টিকাদানের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের প্রায় ৯৩ শতাংশই পোলিও টিকার অন্তত তিনটি ডোজ পেয়েছে।
নিউ ইয়র্ক শহরের উত্তরে রকল্যান্ড কাউন্টির টিকা না নেওয়া এক ব্যক্তি জুলাইয়ে পোলিও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার পর কর্মকর্তারা অঙ্গরাজ্যের বর্জ্য পানি পরীক্ষা শুরু করেন। ২০১৩ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে এটাই প্রথম কারও পোলিওতে আক্রান্ত হওয়ার খবর।
ওই ব্যক্তির এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে আগস্টে কাছাকাছি নাসাউ কাউন্টির বর্জ্য পানির একটি নমুনাতে পাওয়া প্যারালাইটিক পোলিওর সাথে জেনেটিক্যালি যুক্ত ছিল।
অরেঞ্জ কাউন্টি, সুলিভান কাউন্টি এবং নিউ ইয়র্ক শহরের ৫টি বরোর বর্জ্যপানির নমুনাতেও প্যারালাইটিক পোলিও ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
এখন জরুরি অবস্থা জারির ফলে জরুরী চিকিৎসা কর্মী, মিডওয়াইফ এবং ফার্মাসিস্টদের পোলিও ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারে এমন সরবরাহকারীদের নেটওয়ার্কে যোগদানের ক্ষমতা দেয়।
