নজরুলের গান তার কণ্ঠে মধুর হয়ে উঠেছিলো
প্রকাশিত : ০১:৫৭ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ বুধবার | আপডেট: ০১:৫৭ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ বুধবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : কিংবদন্তি শিল্পী ফিরোজা বেগমের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের সংগীত শিল্পীদের হৃদয়ে। গুরুজনকে হারিয়ে শিল্পীরা বিষন্ন হয়ে পরেছেন। তারা সকলেই উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ফিরোজা বেগমের প্রতি জানিয়েছেন শ্রদ্ধ ও ভালোবাসা। তারা বলছেন, এ শূন্যতা অপূরণীয়।
নজরুল সংগীত শিল্পী ডালিয়া নওশিন বলেন, ‘হয়তো তিনি চলেন গেছেন কিন্তু তিনি হারিয়ে যাননি। ফিরোজা বেগমের মত একনিষ্ঠ শিল্পীরা হারিয়ে যান না। কিংবদন্তি এই শিল্পী আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন উদাহরণ হয়ে। সংগীতের মাধ্যমে তিনি যা দিয়ে গেছেন তা আমাদের সম্পদ। তার সুললিত কণ্ঠ, গায়েকি ও শুদ্ধতা অনুসরণ করে আমারা সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।’
নজরুল সংগীত শিল্পী শবনম মোশতারি বলেন, এই গুনী ও মহৎ শিল্পীকে আমি শ্রদ্ধ জানাই। নজরুলের গান যাদের কণ্ঠে মধুর হয়ে উঠেছিলো তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। আমি সৌভাগ্যবান খুব অল্প বয়স থেকেই তার সান্নিধ্য পেয়েছি। তার কাছ থেকে শিখেছি অনেক। তার ঋণ শোধ করা যাবে না। কবি নজরুলের গানের কথা ও সুর তিনি সঠিকভাবে ব্যবহার করেছেন। আর আমরা তাকে অনুসরণ করেছি। তাকে আমরা হারিয়েছি কিন্তু গান ও সুরে তিনি বেঁচে থাকবেন আমাদের জীবনে সবসময়।
নজরুল সংগীত শিল্পী শাহিন সামাদ বলেন, ‘শুদ্ধ নজরুল সংগীত চর্চা করতে তার কাছ থেকে শিখেছি। তিনি আমারদের শিক্ষাগুরু ছিলেন। সাধনার মাধ্যমে সংগীতকে একজন মানুষ কোথায় নিয়ে যেতে পারে তার জ্বলন্ত উদাহরণ তিনি। শুদ্ধ নজরূর সংগীত চর্চার যে ধারা তিরি তৈরি করে দিয়ে গেছেন দীর্ঘ সংগীত জীবনে তা অনুসরণ করে পরবর্তী প্রজন্ম এ চর্চাকে অব্যাহত রাখবে। ফিরোজা বেগম তার সৃষ্টির মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন পৃথিবীতে।’
কন্ঠশিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক বলেন, ‘আজ তার শবদেহ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে। তার প্রতি সাধারণ মানুষের অবাদ ভালোবাসা প্রকাশ পাচ্ছে। আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো খুব কাছে থেকে তার কয়েকটি অনুষ্ঠান দেখার। আজ থেকে সত্তর বছর আগে তিনি যখন গান শুরু করেন তখন আজকের মত অত বাদ্যযন্ত্র ছিলো না। তাছাড়া মুসলমানদের জন্য গান করা ছিলো নিষেধ। সেই সময় অনেক প্রতিবন্ধকতাকে ঠেলে তিনি নজরুল সংগীতকে সুউচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সারা জীবন তিনি নজরুল সংগীত সাধনা করে গেছেন।’
ফিরোজা বেগমের ভাই কণ্ঠশিল্পী আসাফ-উদ-দৌলা বলেন, ‘এমন দিনে আমার পক্ষে বক্তব্য রাখা সম্ভব নয়। তিনি শুধু আমার বড় বোনই ছিলেন না, ছিলেন আমার গুরু। আমি দেখেছি কি নিষ্ঠার সাথে তিনি নজরুল চর্চা করেছেন। কোলকাতায় দারিদ্রতা এবং নানা বৈপিরত্তের সঙ্গে সংগ্রাম করে সংগীত চর্চা অব্যাহ রেখেছেন তিনি।’
রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ফরিদপুরে বাড়ি হওয়ার কারণে পারিবারিক ভাবেই আমি তাকে চিনি। উপমহাদেশের একজন স্বনামধন্য গুণী শিল্পী ফিরোজা বেগম। কিন্তু আমাদের দেশে তাকে কি যথাযথ মর্যাদা দেয়া হয়েছে। আমরা জীবিত অবস্থায় মর্যাদা চাই, মৃত্যুর পর নয়।’
নজরুল সংগীত শিল্পী খায়রুল আলম বলেন, ‘ফিরোজা আপা দীর্ঘদিন গান করেছেন। তার অভিজ্ঞতা, অর্জন, গান-সব রেকর্ড করা জরুরী। শুদ্ধ সংগীত চর্চার মাধ্যমে তিনি যে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন তা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় বড় বড় রেকর্ডিং কোম্পানীগুলো থেকে ফিরোজা বেগমের যে সব গান প্রকাশিত হয়েছে তা আমাদের সব সময় শুনতে হবে। কথা ও সুর ঠিক রেখে দীর্ঘদিন তিনি নজরুল চর্চা করে গেছেন। তার মত গুনী শিল্পী পৃথিবীতে বিরল।’
গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর বলেন, ‘ফিরোজা বেগম নেই। তা নয়; তিনি আছেন এবং থাকবেন চিরদিন। তার গানে, সুরে কালজয়ী এই শিল্পী চিরদিন বেঁচে থাকবেন ভক্তদের হৃদয়ে।’
১০.০৯.২০১৪ 