ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৬, জুলাই ২০২৬ ২:২৯:০৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাব্যবস্থার নীতিমালা এ সপ্তাহে

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০১:২৫ পিএম, ৮ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০২:৫৭ পিএম, ৮ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার

একীভূত শিক্ষাব্যবস্থায় অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে সারাদেশের সব মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কোটা সংরক্ষণ করতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে। এছাড়া সংক্ষিপ্ত আকারে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব সালমা জাহান জানান, অটিস্টিক শিশুদের সমাজের মূল স্রতোধারায় ফিরিয়ে এনে যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দেশে আটটি বিদ্যালয় নির্বাচিত করা হয়েছে পাইলিংয়ের জন্য।

 

একীভূত শিক্ষার লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ অটিজম ও নিউরো-ডেভোলপমেন্টাল ডিজএ্যাবিলিটি (এনডিডি) শিক্ষার্থীদের জন্য একীভূত শিক্ষা ব্যবস্থা নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে শিগগিরই। দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের প্রস্তুত করতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি পরিপত্র জারী করা হবে।

 

নীতিমালায় বলা হয়, দেশে ১৮ লাখেরও বেশি অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার (এএসডি) এবং নিউরো ডেভোলপমেন্ট ডিজএ্যাবিলিটি (এনডিডি ব্যাক্তি) রয়েছেন। এদের জন্য বিশেষ সেবা কাঠামো গড়ে তোলা জরুরী। সামগ্রিক সেবা ও সমর্থন ব্যবস্থার মধ্যে উপযুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা দিতে হবে,যাতে তারা দেশের যোগ্য ও দক্ষ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। এদের জন্য মাধ্যমিকে ভর্তি ও পড়ালেখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

অটিস্টিক শিশুদের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার পর পরবর্তী শ্রেণি অর্থ্যাৎ ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে নীতিমালায়। নীতিমালা অনুযায়ী পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে অটিজম শিশুরা যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করবে সেই প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক মূল্যায়ন বিবেচিত হবে। এসএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘ রেজিস্ট্রেশন মেয়াদ ১০ থেকে ১৫ বছর বহাল রেখে পরবর্তী শ্রেণিতে (একাদশ শ্রেণিতে) ভর্তির সুযোগ পাবে। শুধুমাত্র অনুত্তীর্ণ বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।

 

শিক্ষার্থীর বাসস্থানের নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা ফাইল খুলতে হবে। চাহিদা,সীমাবদ্ধতা ও আচরনগত অসুবিধাগুলোকে ফাইল বা রেজিষ্ট্রারে লিখিত থাকবে। শিক্ষক, কর্মচারি ও শিক্ষার্থীদের আচরণ সহযোগিতামূলক সহমর্মী করার ব্যবস্থা থাকবে। সক্ষমতার মাত্রা ও সীমাবদ্ধতার ধরন সম্পর্কে শিক্ষক কর্মচারিদের নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে নীতিমালায়।

 

শিক্ষার্থীদের অর্ধ - বার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আলাদা রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ব্যবস্থা থাকবে। পরীক্ষার হলে ন্যায্য আসন ব্যবস্থা ও সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে। বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ও পাবলিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এসব শিক্ষার্থীদের সামর্থ্য ও উপযুক্ততাভেদে তাদের জন্য প্রশ্ন প্রণয়ন,বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সাহায্যে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে বিদ্যালয় সংরক্ষন বোর্ডে রাখতে হবে।

 

শিক্ষার্থীদের বয়স অনুসারে সোশ্যাল প্রমোশনের ব্যবস্থা করতে হবে। নীতিমালার সার সংক্ষেপে বলা যায় দেশের সব শিক্ষার্থীদের মত অটিজম ও এনডিডি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। পারস্পরিক ভালবাসা,সহযোগিতা,সহমর্মিতার মাধ্যমে সব ভেদাভেদ ভুলে একীভূত, এক ও অভিন্ন ভালবাসার সমাজব্যবাস্থা চালু করতে হবে যাতে প্রতিবন্ধীদের মধ্যে থেকে দুর্বলতা দূরীভূত হয়ে যায়,যেন তারা নতুন উদ্যমে আমাদের সঙ্গে হয় বেগবান।