ঢাকা, সোমবার ১৩, জুলাই ২০২৬ ২২:৪৫:৩৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

আইএস সদস্যদের সন্তানদের দায়িত্ব এই নারী!

অনলাইন ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০৯:৪৯ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০২:৩৪ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার

‘জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) আমার জীবনের সব কিছু ধ্বংস করেছে। এখন আমি তাদেরই সন্তানদের দেখাশোনা করি।’ কথাগুলো বলছিলেন সুকায়না মুহাম্মাদ আলী ইউনুস নামে এক ইরাকি নারী।

সম্প্রতি সুকায়নাকে নিয়ে নির্মিত বিবিসির এক প্রতিবেদনের ভিডিওটিতে দেখা যায়, নিজের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সুকায়না। আঙ্গুলের ইশারায় দেখাচ্ছিলেন আইএস’র  আরবি হরফে লেখা ‘এই বাড়িটি আইএসএর সম্পত্তি ২০১৪।’

এ সময় সুকায়না বলেন, ‘আইএসের সদস্যরা এখানে বোমা বানিয়েছেন। এমনকি পাশের বাগানে কবর খুঁড়েছেন অনেক।’

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, যুদ্ধে নিহত আইএস সৈন্যদের সন্তানদের দেখাশুনা করছেন তিনি।  তার তত্ত্বাবধানে থাকা দুবছর বয়সী জান্নাত নামে একটি মেয়েকে উল্লেখ করে সুকায়না বলেন,  ‘জান্নাতকে একটি পরিত্যক্ত ক্যাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। আশেপাশে অনেক লাশ ছিল। শিশুটির সম্পর্কে কেউ কিছু জানতো না। সম্ভবত তার বাবা-মা বাইরের কেউ হবে, আমি আসলে সঠিক জানি না।  তবে তাকে মনে হয় না সে ইরাকি।’

তিনি বলেন, ‘জান্নাতের মতো শিশুদের ভবিষ্যৎ কি হবে জানি না।’

সুকায়না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নিয়মিত ওই শিশুদের ছবি পোস্ট করেন। তার বিশ্বাস শিশুদের কোনো আত্মীয় বেঁচে থাকলে তারা যোগাযোগ করবে।

তবে অনেকেই সুকায়নার কাজের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন। সুকায়না বলেন, ‘আমি খুব শঙ্কায় আছি তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। অনেকেই আমাকে বলেছেন, এরা আইএস’র সন্তান। এদের ছবি শেয়ার করছো কেন? আইএস আমাদের সন্তানদের মেরেছে। তাদের সন্তানদেরকে এতিমখানায় পাঠিয়ে দাও।’

এমনকি যুদ্ধের বাবা-মা হারানো সন্তানের দেখাশোনা করতে যেয়ে বেশ হুমকিও পেয়েছেন তিনি।

সুকায়না বলেন, ‘এমন অনেক বার্তা পেয়েছি যেখানে আমাকে অভিশাপ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে বাচ্চাদের দেখাশোনা করার জন্য।’

এক দীর্ঘস্থায়ী রক্তাক্ত যুদ্ধের পর নয় মাস আগে ইরাকের মসুল শহরকে আইএস মুক্ত ঘোষণা করে ইরাকের সামরিক বাহিনী। ইসলামিক স্টেটের দখলে থাকা আলেপ্পোর পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল। ইসলামিক স্টেট সিরিয়ার দখলের পর পরই ‍সুকায়না তার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান দক্ষিণের মসুল শহরে। এসময় আইএসের সৈন্যরা তার বাড়িটি দখল করে সেখানে সদর দপ্তর গড়ে তোলে।