ঢাকা, সোমবার ২৩, মার্চ ২০২৬ ১০:৪০:৩৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

মৃত্যুর আগে ধারণ করা হয় ইরানি কিশোরী নিকার ভিডিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:০৪ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০২২ মঙ্গলবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ইরানে পুলিশ হেফাজতে মারা যান মাহশা আমিনি (২২) নামে এক তরুণী। এর জেরে দেশটিতে টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো চলছে বিক্ষোভ। এতে এখন পর্যন্ত ১৮৫ জনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে শিশু রয়েছে অন্তত ১৯ জন। এরই মধ্যে দেশটিতে নিকা শাকারামি (১৬) নামের এক কিশোরীর বিক্ষোভ করার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে।

নিকার মা বিবিসি পার্সিয়ানকে বলেন, তার মেয়ে মারা যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ভিডিওগুলো ধারণ করা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর তেহরানে নিকা একটি ডাস্টবিনের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন এবং তিনি তার হিজাব পুড়িয়ে ফেলছেন।

এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। এর আগে নিকা তার এক বন্ধুকে বলেন, তাকে পুলিশ তাড়া করছে। নিকার মা নাসরিন অভিযোগ করেছেন, নিকাকে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী মেরে ফেলেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

ইরানের কর্মকর্তারা জানান, নির্মাণাধীন একটি ভবনের ওপর থেকে ফেলে দেওয়ার পর নিকার মৃত্যু হয়েছে। সম্ভবত নির্মাণ শ্রমিকেরা তাকে ফেলে দিতে পারেন।
গত সপ্তাহে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি ফুটেজ সম্প্রচার করা হয়। তাতে ঝাপসা ফুটেজে দেখা যায়, এক কিশোরী বা নারী সরু গলি দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে এবং একটি ভবনের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকছে। ওই নারীকে নিকা বলে উল্লেখ করা হয়।

এই নিয়ে সোমবার (১০ অক্টোবর) বিবিসি পার্সিয়ানকে নিকার মা নাসরিন বলেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে, সে তার মেয়ে নয়। এছাড়া ওই পরিবারের ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্র বলেছে, ভিডিওতে যাকে দেখা গেছে তার হাঁটাচলার ধরনের সঙ্গে নিকার মিল নেই।

নাসরিন আরও অভিযোগ করেছেন, তার বোন আতাশ এবং ভাই মোহসেনকে আটকে রেখে তাদের কাছ থেকে নিকার মৃত্যু সম্পর্কে জোর করে মিথ্যা জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। 
নিকার মা বলেন, তারা আমার ভাইয়ের চার বছর বয়সী সন্তানকে আটকের হুমকি দেয়। বিবিসি বলছে, হিজাব ঠিকমতো না পরার অভিযোগে ইরানে পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভে মারা গেছে নিকার মতো আরও কয়েকজন কিশোরী।

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার রাতে নিকা একটি ভবনে প্রবেশ করে যেখানে আটজন নির্মাণ শ্রমিক ছিল। পরদিন সকালে ভবনের বাইরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। 

তেহরানের আদালত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহরিয়ারির বরাতে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিকার শরীরের নিম্নাংশ, মাথা, হাত ও পায়ের হাড় ভেঙে গেছে বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে তাকে উঁচু কোনো জায়গা থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে।