নিয়ম মেনে ওষুধ সেবন
ডা. সেরাজুম মনিরা
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৪:১৫ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ১১:৪৭ এএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার
আমরা বাঙালি একটু বেশিই আবেগপ্রবণ। নিজেদের শরীর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে বিশেষ একটা খেয়াল না রাখলেও সামান্য সমস্যা বোধ করলে নিজেরাই কোন না কোন ওষুধ খেতে শুরু করি। কারও হঠাৎ করে খারাপ লাগলে তার আশপাশের লোকজনই যেন ডাক্তার হয়ে উঠেন। শুরু হয়ে যায় পরামর্শের বন্দনা।
তাদের পরামর্শ অনুসারে আমরা প্যারাসিটামল, এন্টাসিড, সিপ্রোসিন জাতীয় ওষুধ সেবন করি। একটিবারও কি চিন্তা করি যা করছি তা ঠিক কিনা? গত এক দশকে অতিরিক্ত ওষুধ সেবনে মারা যাওয়ার হার বেড়েছে ৫০ শতাংশ। তারপরও বাস্তবতা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের অসুখবিসুখে আমরা নানা রকমের ওষুধ খাই। অথচ এর পরিণাম ভয়ানক পরিণতির দিকে নিয়ে যায় আমাদের। খোদ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতামত এটি।
দীর্ঘদিন ধরে এন্টাসিড ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। কারণ লাগাতার এ ওষুধ সেবন করলে শরীরে ভিটামিন বি ১২ এর অভাবজনিত সমস্যা হতে পারে। এ থেকে রক্তশূন্যতা, স্নায়ুর সমস্যা,স্মৃতিভোলা সমস্যা,স্মরনশক্তি কমে যেতে পারে। এন্টিবায়োটিক ডাক্তারের নির্দেশমত খাওয়া উচিত। এন্টিবায়োটিক ওষুধের ডোজ নির্দিষ্টভাবে ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খাওয়া উচিত। ডাক্তার রোগিকে ওষুধ দিলেন ১০ দিনের, রোগি ৭ দিনের আগে ভাল হয়ে গেলেন আর ওষুধ খাওয়া বাদ দিলেন। এভাবে করলে পরবর্তীতে ঐ টাইপের এন্টিবায়োটিক আর কাজ করবে না।
থাইরক্সিন জাতীয় ওষুধের ইচ্ছেমত ডোজ বাড়ানো উচিত নয়। অনেকের গলাব্যাথা করলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই থাইরক্সিন জাতীয় ওষুধ খান। এগুলো বেশি খেলে হার্টের সমস্যা হয়। ব্যাথার ওষুধ যখন তখন খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়। এছাড়া যে কোন ব্যথার ওষুধ খাওয়ার আগে এন্টাসিড খাওয়া উচিত।
ইনসুলিন ব্যবহারের ব্যাপারে খুবই সতর্ক হওয়া উচিত। ইনসুলিন নেওয়ার আধা ঘন্টার মধ্যেই খেয়ে নেওয়া উচিত। যাদের প্রেসার বা হাইপার টেনশন আছে তাদের নিয়মিত প্রেসারের ওষুধ খেতে হবে। অনেকে প্রেসারের ওষুধ নিয়মিত খান না। এতে স্ট্রোক হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রেসক্রিপসনে ডাক্তারের লেখা ওষুধের বানান মিলিয়ে তবেই ওষুধ কিনুন।
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন স্টেরয়েড জাতীয় মলম মুখে বা অন্য কোন জায়গায় ব্যবহার করবেন না। কোন অসুস্থতায় একসঙ্গে অ্যালোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক, কবিরাজি ওষুধ প্রয়োগ করবেন না। ওষুধ কখনো গরম জায়গার আশেপাশে রাখবেন না। পুরোনো ওষুধ চোখে দিবেন না।
ওষুধ অনেকদিন পুরোনো হয়ে গেলে ফেলে দিন। ডাক্তারের প্রেসক্রিপসন অনুযায়ী চশমা তৈরির পর অবার ডাক্তারকে দেখিয়ে নেন। ডাক্তারের চিকিৎসাপত্র আলাদা ফাইলে যত্ন করে রাখুন। সর্বোপরি নিজে সুস্থ থাকুন,ভাল থাকুন।
ডা. সেরাজুম মনিরা, এম.বি.বি.এস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
