ইরাকে ধর্ষিতার আর্তচিৎকার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০১:৫৪ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৫:৪৫ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৮ বৃহস্পতিবার
জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইরাকি নারী ও শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি চলছে। এসব যৌন নিপীড়নে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীও জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে অ্যামনেস্টি ইন্টান্যাশনাল প্রকাশিত ’দ্য কনডেম, উইমেন এন্ড চিল্ড্রেন আইসোলেটেড ট্রাপড এন্ড এক্সপ্লয়টেড ইন ইরাক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে। সম্প্রতি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
বাগদাদের উত্তরে নিনেভেহ এবং সালেহউদ্দীন শহরের আটটি শরণার্থী শিবিরের ৯২ জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ প্রতিবেদন তৈরি করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএসের তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন এসব নারী ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনটি বিষয় উঠে এসেছে। প্রথমত নির্যাতনের স্বীকার নারীদের অর্থ, মানবিক সাহায্য কিংবা অন্য পুরুষের হাত থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার নামে যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাধ্য করা হয়।
দ্বিতীয়ত এসব নারী ধর্ষিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। এ কথা তারাই অ্যামনেস্টির সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী দলের কাছে জানিয়েছেন।
অন্তত চারজন নারী জানিয়েছেন, তারা ধর্ষণের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। কখনও কখনও চোখে না দেখলেও ধর্ষিতার আর্তনাদ শুনেছেন।
তৃতীয়ত নারীর যেসব পরিবারের প্রধান, সেগুলোতে খাবার ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অ্যামনেস্টি গবেষণা বিভাগের প্রধান লিন মেলেফ বলেন, আইএসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন নারী ও শিশুদের বিনা অপরাধেই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এ অবমাননাকর যৌথ শাস্তি ভবিষ্যতে সহিংসতা তৈরির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ইরাকে দশকের পর দশক ধরে প্রান্তিক এ বিষাক্ত চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে দেশটির সরকার ও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর কোন ধরনের বৈষম্য ছাড়াই মানবাধিকার নিশ্চিত করা উচিত।
নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্যের মিডিয়া এডভাইজার কার্ল শেম্বি বলেন, এ ধরনের অভিজ্ঞতা মধ্য দিয়ে গেলে তারা ভাসমান অবস্থায় যাবে এবং আরেকবার শোষণের শিকার হবে।
বিদেশী পত্রিকা অবলম্বনে
