ঢাকা, বুধবার ০৪, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১৪:৪৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ঠাকুরগাঁও থেকেও দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৬:০৯ পিএম, ৯ নভেম্বর ২০২২ বুধবার

ঠাকুরগাঁও থেকেও দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা।  ছবি: রেজাউল হাফিজ রাহী।

ঠাকুরগাঁও থেকেও দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। ছবি: রেজাউল হাফিজ রাহী।

হিমালয় পর্বতমালার অংশ কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের বুড়িরবাঁধ থেকে। শীতের সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে দেখা যাচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া। 

ভারতের সিকিম ও নেপালের সীমান্তঞ্চলে অবস্থিত এ পর্বতের চূড়া অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বর-ডিসেম্বর-জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ মাস পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও থেকে দেখা যায়।

জানা যায়, ২০১৩ সালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের বুড়িরবাঁধ এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়ার ছবি প্রথম ক্যামেরাবন্দি করেন ফটোগ্রাফার রেজাউল হাফিজ রাহী। এর আগে শুধু পঞ্চগড় থেকে বিশেষ একটা সময়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যেত।

বুড়িরবাঁধ এলাকার আকবর হোসেন ও শরিফুল ইসলাম বলেন, এর আগের বছরও এই বুড়িরবাঁধ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড় দেখছি। এইবার গত কিছু দিন থেকে দেখা যাচ্ছে তবে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বেশ ভালো দেখা যায়। তারপর আস্তে-আস্তে ঝাপসা হতে থাকে। তবে শেষ বিকেলে সূর্যকিরণ আবার যখন তির্যক হয়ে পড়ে বরফের পাহাড়ে তখন অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে ধরা দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা।

বুড়িরবাঁধ এলাকার আরমান আলী বলেন, আমি অপেক্ষায় থাকি প্রতিবছর এই পাহাড়টা দেখার জন্য। পঞ্চগড়ে না গিয়েও আমাদের ঠাকুরগাঁও থেকে দেখা যায়। গতবছর শীত বেশি থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া ভালোভাবে দেখা যায়নি। তবে এবার শীত কম থাকায় চূড়াটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

ফটোগ্রাফার রেজাউল হাফিজ রাহী বলেন, ২০১৩ সালে বুড়িরবাঁধ এলাকায় পাখির ছবি তুলতে গিয়ে প্রথম কাঞ্চনজঙ্ঘার সর্বোচ্চ চূড়ার ছবিটি ক্যামেরাবন্দি করি। এরপর তা ফেসবুকে পোস্ট করি। এরপর থেকেই মানুষ জেনেছে শুধু পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে নয়, ঠাকুরগাঁও থেকেও কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়া দেখা যায়। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ প্রতিনিয়ত আসে ঠাকুরগাঁও জেলায়। 

সাহিত্যিক ও নাট্যকার আজমত রানা ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার জানান, কয়েকদিন আগেই ঘুরে আসলাম ঠাকুরগাঁওয়ে শেষ সীমানায়। কারণ যত কাছে যেতে পারবেন, ততই স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে দেখতে পারবেন হিমালয় পর্বতমালার অংশ কাঞ্চনজঙ্ঘা’র অপরুপ নয়নাভিরাম দৃশ্য। সত্যিই মনোমুগ্ধকর। এমন সুন্দর দৃশ্য আর দেখিনি কখনো। 

তিনি বলেন, প্রতিদিন ভোরবেলায় হাজার-হাজার প্রকৃতি প্রেমিরা কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসছেন। এখানে মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয় ভোর ও গোধুলি বেলায়। 

ঠাকুরগাঁওয়ের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান জানান, শহরের গোবিন্দগরে অবস্থিত আমাদের অফিসের ৫তলা ভবন থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত সুন্দরভাবে দেখা যায়। সেজন্য ভবনের উপরে আলাদাভাবে ছাদ তৈরি করেছি শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য যেন অফিসের স্টাফরা মনরোম পরিবেশে উপভোগ করতে পারেন। আর শীতের সকালে এই নয়নাভিরাম দৃশ্যই প্রায়ই পরিবার নিয়ে উপভোগ করি আমরা বলেও জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মাহাবুবুর রহমান বলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা আবার ঠাকুরগাঁও থেকে দেখা যাচ্ছে। ঠাকুরগাঁওয়ে যোগ দেওয়ার পর জেনেছি এখান থেকেও কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখা যায়, নিজেও সেই দৃশ্য উপভোগের চেষ্টা করছি। চমৎকার ও অপূর্ব সেই দৃশ্য। নিজের চোখকে বিশ্বাস করা যায় না এতটাই অপূর্ব। 

তিনি আরও বলেন, এই যে এতদূর থেকেও শীতকালে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত দেখা যায় তার জন্য এই অঞ্চলে উচু স্থাপনাসহ শিশুপার্ক, বিনোদন কেন্দ্র ও ক্যান্টিন গড়ে উঠতে পারে।