কে. অ্যাটাকের শিকার মাসার নতুন জীবন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০১:৩০ এএম, ২২ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০৮:৫৯ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার
‘বাতাস নেই, শুধু রক্তের গন্ধ’ দম বন্ধ হয়ে যাবে যে কোনো সময়,এ যেন নরক যন্ত্রণা! সিরিয়ায় কেমিক্যাল অ্যাটাক থেকে বেঁচে ফিরে নিজের ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথা জানালো মাত্র ৭ বছরের শিশু মাসা।
চারদিক ভরে গেছে ধোঁয়ায়৷ বাতাসে তখন শুধুমাত্র রক্তের গন্ধ৷ বয়স মাত্র সাত৷ শৈশবকে গণ্ডিকে এখনও সে পার করেনি৷ এই বয়সেই মুখোমুখি হতে হল চরম বাস্তবের৷ সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথাই সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে শোয়ার করল মাসা৷
কীভাবে ভয়ে কাঁটা হয়ে সে আশ্রয় নিয়েছিল বেসমেন্টের একটি কোণায়৷ সেখান থেকে বেঁচে ফিরে আসার গল্প৷ সবটাই খোলাখুলি ভাবে সংবাদ মাধ্যমকে জানাল সে৷ সম্প্রতি সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার যে ভয়ঙ্কর ছবি সামনে এসেছে, তারই প্রত্যক্ষ সাক্ষী মাসা।
একটি ফুটেজে মাসাকে কাঁদতে দেখা যায়৷ সেইসময় তার চিকিৎসা চলছিল অন্যান্য সমবয়সী বাচ্চাদের সঙ্গে৷ দৌমাতে হওয়া এই অত্যাচারের দৃশ্য বিশ্বের সকল মানুষকে স্তম্ভিত করে দেয়। ৭ এপ্রিল ব্রডকাস্ট করা হয় সেই ছবি৷
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সে জানায়, ‘দৌমাতে বোমাবর্ষণের সময় একটি বেসমেন্টের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলাম আমরা৷ হঠাৎই তারা একটি ব্যারেল ফেলে দেয়৷ যদিও, এটা বিস্ফোরণ ঘটায়নি৷ কিন্তু এর থেকে খুব জোরে শব্দ হয়৷’
ঠিক তখনই কেউ তাকে উপরে উঠে যাওয়ার কথা বলে৷ কিছু না ভেবেই সে উপরে উঠতে শুরু করে৷ শেষ ফ্লোরে গিয়ে পৌঁছাতে পৌঁছাতে তার সারা শরীর অবশ হয়ে আসে৷
মাসা বলে, ‘আমার মা আমার জন্য চিৎকার করতে থাকলে আমার চাচা এসে আমাকে উদ্ধার করে৷ তিনজন ডাক্তার এসেছিল৷ তারা দৌড়ে এসে আমাকে এবং আমার বোনকে নিয়ে যায়৷ প্রথমে তারা আমাদের মেডিকেলে পয়েন্টটে নিয়ে যায় এবং সেখানে নিয়ে গিয়ে আমাদের জল ঢেলে পরিস্কার হয়৷’
মাসা জানিয়েছে তারা যখনই ঘুমাতে যেত তখনই বোমাবর্ষণ হত এবং সবাই ধুলোয় ঢেকে যেত৷ আবার বেসমেন্টে ফিরে যেত তারা।
মাসার কথায়, ‘বাতাসে শ্বাস নেওয়ার বদলে রক্তের গন্ধ আসত নাকে৷’ আক্রমনের মধ্যে ৭৫ জনের বেশি লোক মারা গিয়েছে এবং হাজারের বেশি মানুষ উত্তর কোরিয়ায় রিফিউজি ক্যাম্পে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন৷
মাসার মা, আমানি৷ বয়স ৩৪ বছর৷ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, পুরুষেরা চিৎকার করছিল৷ এরপরই একটি সাদা মেঘের মতো অংশ যেটা দ্রুতবেগে বেসমেন্টের দিকে ধেয়ে আসছিল৷ যেটা মাসসহ তার আরেক মেয়েকে গ্রাস করতে চলেছিল৷
মাসা আরও জানায়, ‘গ্যাসটি ছিল ভীষণই ঝাঁঝালো৷ আমার মায়ের গলা জ্বলতে শুরু করে৷ আমি বমি করতে করতে কাশতে শুরু করি৷ কেউ শ্বাস নিতে পারছিল না৷ অনেকেই মাটিতে পড়ে যাচ্ছিল’৷
আমানি বলেন, ‘আমার শরীর কোনভাবেই কাজ করছিল না৷ আমি উপরের দিকে উঠতে শুরু করলে আমার মনে হতে থাকে যে আমি ক্রমশ শক্তি হারাচ্ছি৷’
তিনি বলেন, ‘আমি আমার শরীরকে কোনভাবে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারছিলাম না৷ সেখানে কোনরকম অক্সিজেন ছিল না৷’
ইব্রাহিম নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একজন চিকিৎসককে তিনি ভেঙে পড়তে দেখেন৷ কারণ, তার কাছে ঔষধের পরিমান ছিল খুবই কম। যেখনে রোগী ছিল ৪০ জন৷
