আজ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০১:২০ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০৪:৩৩ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা আজ। গৌতম বুদ্ধের শুভজন্ম, বোধিজ্ঞান ও মহাপরিনির্বাণ লাভ এই ত্রি স্মৃতিবিজড়িত দিনটি হল বুদ্ধ পূর্ণিমা। বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আজ রোববার সরকারি ছুটি।
আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে সিদ্ধার্থের জন্ম হয়। ২৯ বছর বয়সে সিদ্ধার্থ গৃহত্যাগ করে এই তিথিতেই বোধিলাভ করে বুদ্ধ হন এবং পরবর্তীতে একই দিনে মহা পরিনির্বাণ লাভ করেন।
বৌদ্ধ ধর্মমতে, আজ থেকে আড়াই হাজারেরও বেশি বছর আগে বর্তমান নেপালের অন্তর্গত কপিলাবস্তু রাজ্যের শাক্য বংশীয় রাজা শুদ্ধধনের ঔরসে রানি মায়াদেবীর গর্ভে লুম্বিনী কাননে সিদ্ধার্থের জন্ম হয়। রাজপুত্র সিদ্ধার্থ মানুষের দুঃখে বেদনার্ত হয়ে মুক্তির উপায় খুঁজতে রাজ প্রাসাদ ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন সত্যের সন্ধানে। বিভিন্ন স্থানে পরিভ্রমণের পর অবশেষে তৎকালীন উপমহাদেশের বিহার রাজ্যের গয়ার ফল্গু নদীর তীরে অশ্বত্থ গাছের নিচে বজ্রাসনে বসে কঠোর সাধনায় লাভ করেন বুদ্ধত্ব। পরবর্তী দীর্ঘ ৪৫ বছর ধর্ম প্রচার করে কুশিনারা মল্লদের শালবনে পরিনির্বাপিত হন। তার জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে হয়েছিল বলে বৈশাখী পূর্ণিমার অন্য নাম দেয়া হয় ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’।
গৌতম বুদ্ধ বিশ্বের মানুষের দুঃখ-বেদনাকে নিজের দুঃখ বলে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেন। মানব জীবনের দুঃখ তার দৃষ্টিগোচর হলে তিনি সম্পদ, ঐশ্বর্য তথা সংসার জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন এবং জন্ম, জরা, ব্যাধি ও মৃত্যু- এ চারটির কারণ উদ্ঘাটন এবং মানুষের শান্তিক ও মুক্তির লক্ষ্যে নিমগ্ন হন। বৌদ্ধ ধর্ম কর্মবাদী ধর্ম। এতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক মানুষ তার কাজ অনুসারে ফল পাবে। প্রকৃত কর্মসাধনার মধ্য দিয়ে প্রত্যেক মানুষের পক্ষে বুদ্ধত্ব অর্জন ও নির্বাণ লাভ সম্ভব। মহামতি বুদ্ধ মানুষকে মৈত্রী ভাবনায় ভাবিত হতে বলেছেন। পরের দুঃখে দুঃখী হয়ে, অপরের সুখে সুখী হয়ে, উপেক্ষার মনোভাব নিয়ে জীবনযাপনের উপদেশ দিয়েছেন। বিশ্ব চরাচরে সকল সত্তা যেন সুখী হয়, এটাই ছিল বুদ্ধের ঐকান্তিক কামনা। বুদ্ধ তার শিক্ষা ও আদর্শ বিস্তারের জন্য গড়ে তুলেছিলেন ‘ভিক্ষু সংঘ’।
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠানের। সকালে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে সূচনা হবে মূল অনুষ্ঠানের। দেশের বিভিন্ন বুদ্ধ মন্দিরে আলোকসজ্জা, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ, কঠিন চিবরদান, আলোচনা সভাসহ থাকছে নানা আয়োজন। জগতের সব প্রাণীর সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ প্রার্থনা।
বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন।
যথাযথ ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে বৌদ্ধ সম্প্রদায় তাদের এ প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।
এদিকে বাসাবো সবুজবাগ ধর্মরাজী বৌদ্ধ মহাবিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে সমবেত প্রার্থনা, ধর্মীয় আলোচনা সভা ও বৌদ্ধ পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
