ঢাকা, শুক্রবার ০৩, জুলাই ২০২৬ ১২:৫২:৫২ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

রাজশাহীতে তামিম হত্যা রহস্য উন্মোচন

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০৫:০১ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০৫:২৪ পিএম, ১ মে ২০১৮ মঙ্গলবার

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর শিশু তামিম হোসেন খুনের রহস্য উন্মোচন হয়েছে। নিজ ফুফুর হাতে তিন বছরের এ শিশু খুন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। তবে ঘটনাটি ছিল অনিচ্ছাকৃত।

সোমবার দুপুরে রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল্লাহ তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

নিহত তামিম গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা বাইপাস-উজানপাড়া গ্রামের রাসেল হোসেনের ছেলে।

গত শুক্রবার সকালে বাড়ির সামনের একটি মাঁচানের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পেটের সঙ্গে পা-বাধা এবং পলিথিন, জাল ও ওড়না দিয়ে জড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায় তামিমের মরদেহ। নিহত তামিমের বাবা পেশায় একজন নির্মাণশ্রমিক।

গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নিখোঁজ হয় তামিম। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, কে বা কারা তাকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।

শুক্রবার ভোরে তাদের বাড়ির সামনে মাঁচানের নিচে ফেলে যায়। পরে ছোট ফুফু সোনিয়া খাতুন (১৪) প্রথমে তামিমের মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় পরিবারকে ডাকা হয়। তবে পুলিশ বলছে, এ সোনিয়ার হাতেই অনিচ্ছাকৃতভাবে খুন হয় তামিম।

সংবাদ সম্মেলনে এসপি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে হাঁসুয়ায় সবজি কাট ছিল সোনিয়া। তখন হাঁসুয়ার নিচের অংশ থেকে কাঠের বাট খসে লোহার অংশ বেরিয়ে যায়। সেই বাট লাগানোর চেষ্টা করছিল সোনিয়া। তখন তামিম সেখানে ঢুকে পড়লে তার মাথায় লোহার সরু অংশের আঘাত লাগে। এতে তার মাথায় গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। সঙ্গে সঙ্গে একটা ঝাঁকুনি দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশু তামিম। সে সময় তামিমের মা ঘুমাচ্ছিলেন।

সোনিয়া বিষয়টি প্রথমে তার বড় বোন রাবেয়া খাতুন (২২) ও পরে মা নার্গিস বেগমকে (৪৭) জানায়। এভাবে শিশুটির মৃত্যু হওয়ায় তারা ভয় পেয়ে যান। পরে তারা সবাই মিলে মরদেহটি মাঁচানের নিচে নিয়ে রেখে দেন এবং ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিতের চেষ্টা করেন।

এসপি জানান, ঘটনার পর পরিবারের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু কারও সঙ্গে কারও কথার মিল পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই রোববার সোনিয়া, রাবেয়া ও তাদের মা নার্গিসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার কার্যালয়ে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলে রাতে তারা তামিমের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে তা পুলিশের কাছে বর্ণনা করেন। এ ঘটনার জন্য তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া সোমবার দুপুরে তাদের আদালতে তোলা হয়। সেখানে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

তামিমের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা রাসেল অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলাও করেছেন। সে মামলাতেই এ তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলেও জানান রাজশাহী পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ।